Nvidia vs AMD! 5070TI vs 9070XT!! GPU Comparison

বর্তমান সময়ের হাই-এন্ড পিসি বিল্ডের অন্যতম কম্পোনেন্ট বা উপদান যদি বলা হয়, তবে তার মধ্যে উপরের দিকে থাকবে গ্রাফিক্স কার্ড। GPU যেমন একটা পিসি’কে করে তুলে পাওয়ারফুল, তেমনই অনেক কাজ করে দেয় সহজ। কিন্তু GPU এর বাজার যেমন বড় তেমন তার দামও বেশ চড়া। বর্তমান বাজারে GPU ক্রমশই চলে যাচ্ছে পকেট ও সাধ্যের বাইরে।

এজন্যই আজকে আমাদের এই রিভিউ’তে আমরা ৪টি GPU এর head to head কম্পারিজন করে দেখার চেষ্টা করব কোনটি আসলেই আপনাদের কাজের জন্য পার্ফেক্ট। এই রিভিউ’তে যেমন থাকছে NVIDIA এর লেটেস্ট আর্কিটেকচারের কার্ড , তেমনই থাকছে AMD এর লেটেস্ট কার্ড। এরপাশি রেখেছি NVIDIA এর ১ জেনারেশন আগের কার্ড।

আজকে এই কম্পারিজনের জন্য আমাদের কাছে রয়েছে NVIDIA ও AMD থেকে ২টি করে মোট চারটি GPU; Colorful BattleAx/NB EX-V) RTX 4080 16GB,  Gigabyte GeForce RTX 5070 Ti GAMING OC 16GB, Gigabyte AMD Radeon RX 9070 XT Gaming OC 16GB, PowerColor Reaper AMD Radeon™ RX 9070 XT 16GB

Visual Inspection

Colorful BattleAx RTX 4080 16GB

চলুন শুরুতেই দেখে নেওয়া যাক কালারফুলের Colorful BattleAx RTX 4080 16GB গ্রাফিক্স কার্ডটি। RTX 4080 নিয়ে নতুন করে বলার তেমন কিছু নেই।এই কার্ডটির শ্রাউডে কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের উপর মাঝ বরাবর দুটি লাল ডিজাইন রয়েছে, যাকে কালারফুল “মেনাসিং লাক্সারি” ডায়মন্ড কাট স্টাইল বলে উল্লেখ করেছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে তিনটি 98 mm রিং-শেপড ফ্যান।  কার্ডটির ডান পাশে কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে লাল ফন্টে “Colorful” লেখা একটি ডিসপ্লে রয়েছে, যা জ্বলে-নিভে ইফেক্ট দেয়। এটি একটি ২.৫ স্লটের গ্রাফিক্স কার্ড। IO Port হিসেবে এতে রয়েছে তিনটি DisplayPort 1.4a এবং একটি HDMI 2.1 পোর্ট। কার্ডটি চালাতে একটি 12VHPWR কানেক্টর প্রয়োজন হবে। আপনার পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটে যদি তিনটি PCIe 8-পিন কানেক্টর থাকে, তাহলে সাথে থাকা কনভার্টার কেবল ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে কনভার্টার ব্যবহার না করাই ভালো। কার্ডটির ব্যাকপ্লেটে লাল অ্যাকসেন্ট স্ট্রাইপের মাঝে “Colorful” লেখা রয়েছে। আইও পোর্টের কাছাকাছি সাদা রঙে “GeForce RTX” লেখা দেখা যায়, এবং উন্নত ভেন্টিলেশনের জন্য একটি কাট-আউটও রাখা হয়েছে।

GIGABYTE RTX 5070 Ti Gaming OC

এবার আসা যাক গিগাবাইটের RTX 5070 Ti Gaming OC গ্রাফিক্স কার্ডটির কথায়। কালো রঙের শ্রাউডের ওপর ফিউচারিস্টিক শেপ, প্যাটার্ন ও টেক্সচার ব্যবহার করে কার্ডটিকে দারুণভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। ফ্যানগুলোর নিচে মাঝ বরাবর “Dominating the Games” লেখা এনগ্রেভিং রয়েছে।  শ্রাউডের ডান পাশে “Gaming” লেখা দেখা যায়, যার উপরে ছোট করে “Code Cyborg” ট্যাগলাইন যুক্ত করা হয়েছে। কার্ডটিতে ব্যবহৃত রিং-স্টাইলের RGB ফ্যানগুলোকে গিগাবাইট “Hawk Fan” নামে পরিচিত করেছে, আর সম্পূর্ণ কুলিং সেটআপটির নাম দিয়েছে “Windforce Cooling System”। শ্রাউডে একটি RGB লাইট স্ট্রিপ রয়েছে, যেটি চাইলে স্লাইডিং সাইড প্লেট দিয়ে ঢেকে রাখা যায়। তখন সাইড প্লেটের উপর থাকা “Gigabyte” লেখাটি RGB লাইটিংয়ের মাধ্যমে হাইলাইট হয়ে ওঠে। এটি একটি তিন-স্লটের গ্রাফিক্স কার্ড এবং এটি চালাতে একটি 12VHPWR কানেক্টর প্রয়োজন। কার্ডটির জন্য ৭৫০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট সুপারিশ করা হয়েছে। IO Port হিসেবে এতে রয়েছে তিনটি DisplayPort 2.1b এবং একটি HDMI 2.1b পোর্ট। ব্যাকপ্লেটেও “Gigabyte” এবং “Gaming” ব্র্যান্ডিংয়ের পাশাপাশি আকর্ষণীয় টেক্সচার ও ফিউচারিস্টিক ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে, এবং উন্নত কুলিংয়ের জন্য একটি কাট-আউট রাখা হয়েছে।

GIGABYTE Radeon™ RX 9070 XT GAMING OC 16G

আমাদের আজকের ফোর-ওয়ে কম্পারিজনে Gigabyte’এর AMD Radeon প্রতিনিধিত্ব করছে RX 9070 XT Gaming OC 16GB গ্রাফিক্স কার্ডটি। ডিজাইনের দিক থেকে এটি এর NVIDIA গেমিং কাজিন কার্ডটির সাথে খুব একটা ভিন্ন নয়। তবে পাওয়ার ডেলিভারির ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য রয়েছে, এই কার্ডটিতে তিনটি 8-পিন PCIe কানেক্টর প্রয়োজন হয়। এর জন্য ৮৫০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট সুপারিশ করা হচ্ছে। এটি একটি ফ্যাক্টরি ওভারক্লকড ভ্যারিয়েন্ট, যার ফলে এর TDP স্ট্যান্ডার্ড মডেলের তুলনায় প্রায় ৩০ ওয়াট বেশি। আইও অপশনের ক্ষেত্রে এতে রয়েছে দুটি HDMI 2.1a এবং দুটি DisplayPort 2.1b পোর্ট।

PowerColor Reaper AMD Radeon™ RX 9070 XT 16GB

পাওয়ার কালারের RX 9070 XT Reaper 16GB গ্রাফিক্স কার্ডটি মূলত একটি বাজেট-অরিয়েন্টেড অপশন, তাই এতে অতিরিক্ত RGB লাইটিং বা চটকদার ডিজাইনের ঝামেলা রাখা হয়নি। কার্ডটিতে কালো শ্রাউডের মধ্যে তিনটি কালো ফ্যান ব্যবহার করা হয়েছে, আর ফ্যানের স্টিকারে থাকা পাওয়ার কালারের লাল লোগোটি সামান্য লাল অ্যাকসেন্ট যোগ করেছে। কার্ডটির পুরো ডিজাইনেই একটি কনসিস্টেন্ট কালো থিম বজায় রাখা হয়েছে। এর এক্সপোজড হিটসিঙ্ক ফিনগুলো কার্ডটিকে কিছুটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল লুক দেয়। মেটাল ব্যাকপ্লেটে আইও শিল্ডের কাছে কালো ফন্টে “AMD Radeon” লেখা থাকলেও এটি খুব বেশি চোখে পড়ে না। ব্যাকপ্লেটের একটি অংশে কুলিংয়ের সুবিধার জন্য কাট-আউট রাখা হয়েছে। পাওয়ার দেওয়ার জন্য এতে দুটি 8-পিন PCIe কানেক্টর প্রয়োজন হয়। আইও পোর্ট সেকশনটিও কালো রঙে রাখা হয়েছে, যেখানে রয়েছে তিনটি DisplayPort 2.1a এবং একটি HDMI 2.1b পোর্ট।

Test System Specifications

 

টেস্টিং এর সময় লেটেস্ট যে গ্রাফিক্স ড্রাইভার অ্যাভেইলেবল ছিলো, NVIDIA Driver Version 5.72.70, এবং AMD’এর জন্য অ্যাভেইলেবল ছিলো Driver Version 25.3.1, সেটাই ব্যাবহার করেছি, তবে এই রিভিউ পাব্লিশ হতে হতে আরো নতুন ড্রাইভার ভার্সন এসে থাকতে পারে, সেইসাথে উইন্ডোজ এবং গেম টাইটেলগুলোর আপডেটও চলে আসতে পারে যা পারফর্মেন্সে পরিবর্তন আনতে পারে।

Adobe Premiere Pro Results

আমাদের অ্যাডোবি প্রিমিয়ার টেস্টিংইয়ে আমরা চারটি ডিফারেন্ট ডিভাইস থেকে নেয়া ফুটেজ টাইম্লাইনে প্লেব্যাক করে এর Number of Dropped Frames কাউন্ট করেছি, এবং একটি সিম্পল প্রজেক্ট ক্রিয়েট করে তা রেন্ডার দিয়ে এক্সপোর্ট টাইমে মেসার করেছি,

  • সনি এফএক্স ৬৩০ এর ফোরকে ফুটেজ প্লেব্যাকে RTX 5070ti কোন প্রকার ফ্রেম ড্রপ করেনি, RX 9070XT এক্ষেত্রে ৪১টি ফ্রেম ড্রপ করেছে,
  • এরপর আমরা আইফোনে রেকর্ড করা ফোরকে ফুটেজ প্লেব্যাক টেস্ট করেছি, এই টেস্টে দুই কার্ডের কোনটিতেই ফ্রেম ড্রপ হয়নি,
  • লুমিক্স জিএইচ ফাইভ এসের ফোরকে ফুটেজ প্লেব্যাকেও কোন প্রকার ফ্রেম ড্রপ পাওয়া যায়নি,
  • ব্ল্যাকম্যাজিকের ফোরকে ফুটেজ প্লেব্যাকে আমরা RTX 5070ti মাত্র ৭টি ফ্রেম ড্রপ করে, অন্য দিকে রেডিওন আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি এখানে ৪৯৩টি ফ্রেম ড্রপ করেছে, খুব সম্ভব অ্যাডোবি প্রিমিয়ারের ব্ল্যাক ম্যাজিক প্লাগিনটি রেডিওন কার্ডের জন্য অপ্টিমাইজড না,

এবারে প্রোজেক্ট এক্সপোর্টের পালা,

  • আমাদের টেস্ট প্রজেক্টটি আমাদের টেস্ট সিস্টেমে RTX 5070ti দিয়ে কনফিগারড থাকা অবস্থায় এক্সপোর্টে টাইম লেগেছে ০৩ঃ৫৩,
  • RX 9070XT এইখানে সময় নিয়েছে ০৩ঃ৫৮ সেকেন্ড

অর্থাৎ প্রোজেক্ট এক্সপোর্ট টাইমে এই দুইয়ের মাঝে তেমন কোন পার্থক্য নেই, আর যদি ব্লেন্ডারের মতো সফটওয়্যার ব্যাবহার করতে হয়, সেক্ষেত্রে NVIDIA is still king, ব্লেন্ডারে এনভিডিইয়ার পারফর্মেন্স এএমডি’র প্রায় দিগুণ। চলে যাচ্ছি আমাদের সিন্থেটিক বেঞ্চমার্ক সেকশনে।

3DMark Fire Strike

সিন্থেটিক বেঞ্চমার্কের শুরু করছি 3DMark Fire Strike দিয়ে। এটি একটি DirectX 11 ভিত্তিক টেস্ট, যা 1080p রেজোলিউশনে রান হয়। চলুন সরাসরি ওভারঅল স্কোরে চলে যাই।  এই টেস্টে Gigabyte RTX 5070 Ti Gaming OC প্রথম স্থান দখল করেছে, স্কোর প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে Gigabyte RX 9070 XT Gaming OC, যার স্কোর প্রায় ৪৯,০৮২। তৃতীয় স্থানে আছে Colorful RTX 4080 Battle AX, প্রায় ৪৮,৮৪৫ স্কোর নিয়ে। আর সবশেষে রয়েছে PowerColor RX 9070 XT Reaper, যার স্কোর প্রায় ৪৮,৬৫৯।  স্কোরগুলো দেখতে গিয়ে মনে হয় যেন ভোট গণনার ফলাফল দেখছি, এতটাই কাছাকাছি প্রতিযোগিতা। সাধারণত এই ধরনের টেস্টে AMD কার্ডগুলো এগিয়ে থাকে, তাই এখানে ফলাফল কিছুটা ভিন্ন লাগতে পারে। সম্ভবত DirectX 11-এ ড্রাইভার ওভারহেড সংক্রান্ত কোনো প্রভাব এখানে কাজ করছে।

FPS ব্রেকডাউনে দেখা যায়, RTX 5070 Ti সর্বোচ্চ ফ্রেমরেট দিয়েছে। এর পরেই রয়েছে RX 9070 XT Gaming OC। তৃতীয় স্থানে RTX 4080 Battle AX এবং সবশেষে PowerColor Reaper 9070 XT। যদিও GT1 টেস্টে Reaper কার্ডটি RTX 4080-এর চেয়েও ভালো পারফর্ম করেছে, কিন্তু বাকি টেস্টগুলোতে পিছিয়ে পড়ায় সেটি শেষ স্থানেই রয়েছে।

3DMark Fire Strike Extreme

ফায়ার স্ট্রাইক বেঞ্চমার্কের পাড়ার বড় ভাই বলতে পারেন Fire Strike Extreme টেস্টটিকে, এটি ইফেক্টসগুলোকে ডায়াল আপ করার পাশাপাশি 1440p রান হয়। চলে যাচ্ছি স্কোরসে। ফায়ার স্ট্রাইক এক্সট্রিমেও RTX 5070ti ফার্স্ট প্লেস ধরে রাখতে সক্ষম হলো 32,727 পয়েন্টস স্কোর করে, সেকেন্ড প্লেসে আছে 9070XT Gaming OC , ৩২,৩২৫ স্কোর করে; থার্ড প্লেসে আছে BattleX RTX 4080, 31, 619 পয়েন্টস স্কোর করে, এবং লাস্ট প্লেসে আছে RX 9070 XT Reaper ৩১,৪৯৫ পয়েন্টস স্কোর করে, অর্থাৎ আমাদের hierarchy অপরিবর্তিত রয়েছে।

এবারে চলে আসছি এফপিএস ব্রেকডাউনে। RTX 5070ti অল্পের জন্য জিটি ওয়ানে ২০০ এফপিএস থেকে বঞ্চিত হয়েছে, 9070XT Gaming OC সেকেন্ড প্লেসে আছে প্রায় ১৯১ এফপিএস দিয়ে, BattleX RTX 4080 এবারেও থার্ড প্লেস ধরে রেখেছে, RX 9070 XT Reaper GT-2, BattleX RTX 4080 কে বিট করলেও বাকি দুই টেস্টে পিছিয়ে পড়ায় শেষ পজিশনে পড়লো।

3DMark Fire Strike Ultra

Fire Strike Extreme যদি হয় পাড়ার বড়ভাই তাহলে Fire Strike Ultra আপনি পাড়ার স্বঘোষিত নেতা বলতেই পারেন, এটি ইফেক্টসগুলোকে আরো ডায়াল আপ করার পাশাপাশি ফোরকে রেজোলিউশানে রেন্ডার হয়ে থাকে, একসময় এই টেস্ট স্রেফ মাল্টি জিপিইউ বেসড পিসিগুলোর জন্যই রিকোমেন্ডেড ছিলো, তবে এখনকার দিনের জিপিইউগুলো একলাই একশো, RTX 5070ti গেমিং ওসি’র স্কোর দেখে অন্তত তাই মনে হচ্ছে, ১৮ হাজারের চেয়ে সামান্য কিছু বেশি পয়েন্টস স্কোর করে এই কার্ডটি এবারে চার্ট টপ করছে, 9070XT Gaming OC সেকেন্ড প্লেসে আছে ১৭,৯৮৬ পয়েন্টস স্কোর করে,BattleX RTX 4080 এখানে RX 9070 XT Reaper থেকে মাত্র তিনটি পয়েন্ট বেশি স্কোর করে থার্ড পজিশনটি দখল করলেও এটাকে প্রায় একটা ড্র বলা চলে।

এবারে চলে যাচ্ছি এফপিএস ব্রেকডাউনে। RTX 5070ti স্কোরসে এক নাম্বারে থাকলেও GT-2 9070XT Gaming OC সামান্য একটা লিড নেয়। RX 9070 XT Reaper এবং আরটিএক্স ৪০৮০ ব্যাটল এক্স এর মাঝে বলার মতো কোন তফাৎ নেই, এবারে চলে যাচ্ছি পোর্ট রয়্যাল টেস্টে।

Port Royal

 

Port Royal একটি Ray-tracing বেঞ্চমার্ক, রে ট্রেসিং বলতেই Nvidia’এর জয়জয়কার, RTX 5070ti এর স্কোরও অনেকটা সে কথাই বলছে, ১৯,২১৮ পয়েন্টস নিয়ে এই কার্ডটি ফার্স্ট প্লেইসে, ১৮,৮৬৪ পয়েন্টস নিয়ে Gigabyte AMD Radeon RX 9070 XT Gaming OC সেকেন্ড প্লেইসে, BattleX RTX 4080 সামান্য একটু বেশি স্কোর করে থার্ড প্লেস টা নিয়ে নিলো, RX 9070 XT Reaper মাত্র ১৮ পয়েন্ট পিছিয়ে লাস্ট পজিশনে, AMD’এর , কার্ড Ray Tracing-এ NVIDIA’এর সাথে এইভাবে কম্পিট করবে তা কিছু দিন আগেও ভাবা যেতো না, এই হাড্ডাহাড্ডি কম্পিটিশনটা দেখে বেশ ভালোই লাগছে, এই কম্পিটিশিন আসলে কতোটা ইন্টেন্স তা আরো খোলাসা হবে এফপিএস ব্রেকডাউন দেখলে।

RTX 5070ti অল্মোস্ট ৯০ এফপিএস নিয়ে চার্ট টপ করছে, ৮৭.৩৪ এফপিএস নিয়ে Radeon RX 9070 XT Gaming OC সেকেন্ড প্লেইসে, RTX 4080 এবং RX 9070 XT Reaper কার্ড দুটির মাঝে পারফরমেন্সের গ্যাপ দশমিকের ঘরে, অনেকটা চুল চেরার মতোই।

Speed Way

Speed Way একটি DIrectX 12 Ultimate বেঞ্চমার্ক, এই টেস্টে NVIDIA বরাবরই ভালো করে আসছে এবং আমাদের আজকের স্কোরকার্ডের দৃশ্যপট এর ভিন্ন কিছু নয়, ৭,৬৬৬ পয়েন্টস নিয়ে RTX 5070ti ফার্স্ট প্লেসে, ৭,৩৮৮ পয়েন্টস নিয়ে RTX BattleX RTX 4080 সেকেন্ড প্লেসে, RX 9070 XT Gaming OC থার্ড প্লেইস এবং RX 9070 XT Reaper লাস্ট প্লেইস সিকিউর করলেও এদের এনভিডিইয়া কাউন্টারপার্ট থেকে এই টেস্টে এদের স্কোরের তফাৎ বেশ চোখে পড়ার মতো, ব্যাপারটা আরো খোলাসা হবে এফপিএস ব্রেকডাউনে গেলে।

এফপিএস ব্রেকডাউনে আমি আশা করেছিলাম RTX 5070ti ৭৬.৬৬৬ এফপিএস পাবে কিন্তু রাউন্ডিং করে সেই ফিগারটি এসেছে ৭৬.৬৭, RTX BattleX RTX 4080 এখানে স্কোর করেছে প্রায় ৭৪ এফপিএস, ৬৪.২৭ এফপিএস নিয়ে RX 9070 XT Gaming OC থার্ড প্লেসে এবং সব শেষে RX 9070 XT Reaper একদম কাটায় কাটায় ৬৩ এফপিএস অ্যাভারেজ করেছে, এই টেস্টটি খানিক্টা এক পেশেই হলো বলতে হবে, এইখানে NVIDIA ক্লিয়ার কাট উইনার।

Steel Nomad

 

Steel Nomad একটি DIrectX 12 এবং Vulkan API বেসড রাস্টার গ্রাফিক্স বেঞ্চমার্ক, র‍্যাস্টার মানেই AMD স্ট্রংহোল্ড, RX 9070 XT Gaming OC এর স্কোর দেখেও সেটাই উপলব্ধি হচ্ছে, প্রায় ৭,২৫০ পয়েন্টস নিয়ে এই কার্ডটি ফার্স্ট পজিশনে, RX 9070 XT Reaper ৬,৯৭০ পয়েন্ট নিয়ে সেকেন্ড পজিশনে, RTX BattleX RTX 4080 এইখানে থার্ড পজিশনে ৬,৫৮৭ পয়েন্টস নিয়ে এবং লাস্ট প্লেসে RTX 5070ti ৬,৪৪৭ পয়েন্টস নিয়ে। স্পিড ওয়ের ঠিক বিপরীত চিত্রই আমরা এই রেসাল্টসগুলোতে দেখতে পাচ্ছি, আরো ক্ল্যারিফিকেশনের জন্য এখন চলে যাচ্ছি এফপিএস ব্রেকডাউনে।

৭২.৫ এফপিএস নিয়ে প্রথম প্লেসে Gigabyte RX 9070 XT Gaming OC এক নাম্বারে আছে, প্রায় ৬৯.৭ এফপিএস নিয়ে সেকেন্ড প্লেসে আছে RX 9070 XT Reaper , Colourful RTX BattleX RTX 4080 ৬৫.৮৮ এফপিএস নিয়ে থার্ড প্লেসে, ৬৪.৪৭ এফপিএস নিয়ে RTX 5070ti গেমিং ওসি সবার শেষ পজিশনে, এখান থেকে আমরা টেইক অ্যাওয়ে যেটা পাচ্ছি সেটা হচ্ছে ওয়ার্কলোডের উপর এই কার্ডগুলোর পারফর্মেন্স অনেকটাই ডিপেন্ড করবে।

Time Spy

DirectX 12 প্রথম সারির সিন্থেটিক বেঞ্চমার্কের একটি হচ্ছে থ্রিডি মার্ক Time Spy, এটির বেস রেজোলিউশান হচ্ছে 1440p এবং এটি রিলিজের টাইমে বেশ ইন্টেন্সিভ একটি বেঞ্চমার্ক হিসেবে পরিচিত ছিলো, এই টেস্টেও বরাবরই AMD খুব স্ট্রংলি পারফর্ম করে আসছে, আমাদের আজকের টেস্টিং এর রেসাল্টসেও এর ব্যাতিক্রম কিছু দেখা গেলো না, ২৫,৮৫৭ পয়েন্টস নিয়ে Gigabyte RX 9070 XT Gaming OC ফার্স্ট প্লেইসে, ২৫,২১৮ পয়েন্টস নিয়ে RX 9070 XT Reaper সেকেন্ড প্লেইসে, Colourful RTX BattleX RTX 4080 কার্ডটি ২৪,২২৬ পয়েন্টস নিয়ে থার্ড প্লেইসে, ২৩,৯৭২ পয়েন্টস নিয়ে RTX 5070ti লাস্ট প্লেইসে, আপাতদৃষ্টিতে পারফর্মেন্স হিয়েরারকি দেখে সব কিছু ঠিকঠাক আছে বলেই মনে হচ্ছে, ব্যাপারটা আরো খোলাসা হবে এফপিএস ব্রেকডাউনে গেলে।

Gigabyte RX 9070 XT Gaming OC GT-1 এবারে ২০০ এফপিএস এর গন্ডিটা পার করেই ফেললো, জিটি টু তেও ১৭৩ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে দেখালো, RX 9070 XT Reaper চার পয়েন্টের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি মিস করলো, এনভিডিইয়ার কার্ডগুলোর মাঝে স্রেফ RTX BattleX RTX 4080 কিছুটা কম্পিট করেছে প্রায় ১৮৯ এফপিএস নিয়ে, RTX 5070ti সবার শেষ পজিশনে আছে ১৮২ এফপিএস নিয়ে, দেখতে দেখতে আমরা আমাদের সিন্থেটিক টেস্ট স্যুইটের প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি, চলে যাচ্ছি টাইম স্পাই এক্সট্রিম টেস্টের রেসাল্টসে।

Time Spy Extreme

Time Spy Extreme টেস্টটি ফোরকে রেজোলিউশানে রেন্ডার হয়, এবং এতে টাইম স্পাইয়ের তুলনায় ইফেক্টসগুলোকে আরো র‍্যাম্প আপ করা হয় যার ফলে জিপিইউ আরো বেটার ওয়ার্কআউট পায়, সেই সাথে এফপিএসের সংখ্যাও কমে যায়। স্কোরসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাচ্ছি এবারেও Gigabyte RX 9070 XT Gaming OC কার্ডটি এক নাম্বার পজিশনে আছে ১২,১২৫ পয়েন্টস নিয়ে, RX 9070 XT Reaper সেকেন্ড পজিশনে আছে ১১,৮৩৯ পয়েন্টস নিয়ে, RTX BattleX RTX 4080 কার্ডটি প্রায় ১১,৬০০ পয়েন্টস নিয়ে থার্ড পজিশনে, এবং লাস্টলি ১১,৩৬০ পয়েন্টস নিয়ে RTX 5070ti লাস্ট পজিশনে। অ্যাভারেজ এফপিএস ব্রেকডাউন দেখলে এই স্কোরগুলো আরো ক্লিয়ার কাট একটি ধারণা দিবে।

Gigabyte RX 9070 XT Gaming OC ৬টি ফ্রেমের অভাবে জিটি ওয়ানে সেঞ্চুরি স্কোর করা থেকে বঞ্চিত হলো, RX 9070 XT Reaper কার্ডটি এক্ষেত্রে নার্ভাস নাইন্টিজের শিকার, RTX BattleX RTX 4080 এখানে প্রায় ৮৭ এফপিএস স্কোর করেছে, এবং RTX 5070ti টিআই সিন্থেটিক বেঞ্চগুলোর শুরুতে RTX 4080 কে অভারটেইক করলেও এই টেস্টগুলোতে সেটা আর করে দেখাতে পারলো না, এই রেসাল্টসগুলো রাখতে হবে এসব সিন্থেটিক বেঞ্চমার্কের রেসাল্টসগুলো একটা গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে, এটা হয়তো সবসময় সব গেমের পারফর্মেন্স রিপ্রেসেন্ট করবে না, গেমের ইঞ্জিন, ওয়ার্কলোড, ড্রাইভার অপ্টীমাইজেশন, স্পন্সরশীপ, ইত্যাদি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ফাইনাল পারফর্মেন্স ডিপেন্ড করবে। এরই সাথে শেষ হলো আমাদের সিনথেটিক বেঞ্চমার্ক স্যুইট, এবারে চলে যাচ্ছি গেমিং বেঞ্চমারক্সে।

Alan Wake 2

 

রেমেডি এন্টারটেইন্মেন্টের সারভাইভাল হরর গেম অ্যালান ওয়েক টু পিসি কম্যুনিটিতে কিছুটা কুখ্যাত খুবই রিসোর্স হাংরি হিসেবে, গেমটি বিভিন্ন প্রকার আপডেটের মাধ্যমে কিছুটা অপ্টিমাইজেশন ইমপ্লিমেন্টের মাধ্যমে অভার টাইম পারফর্মেন্স ইম্প্রুভমেন্টস এনেছে, রিসেন্টলি এতে এনভিডিইয়ার ডিএলএসএস ফোর, ডিএলএসএস মাল্টি ফ্রেম জেনারেশন, আরটিএক্স মেগা জিওমেট্রির মতো কিছু ফিচার ইমপ্লিমেন্ট করা হয়েছে যা আরটিএক্স ৫০০০ এবং আরটিএক্স ৪০০০ সিরিজের পারফরমেন্সে ডেফিনিটলি একটি ইম্প্যাক্ট ফেলে, এখানে একটি কথা বলে রাখা ভালো যে এই গেমটি ডিএলএসএস বা এফএসআরকে এক প্রকার ফিল্টার হিসেবে ব্যাবহার করে, নেটিভ রেজোলিউশানে চললেও ডিএলএসএস এর ক্ষেত্রে এটি ডিএলএএ ব্যাবহার করে, তবে এফএসআর টু সেম ট্রিট্মেন্ট পায় না, যার ফলে এফএসআর এর ইমেজ কোয়ালিটি একটু ইনফেরিয়র। আমরা এই গেমটি টেস্ট করেছি গেমটির শুরুর দিকে একটি বেশ ইন্টেন্সিভ লোকেশানে অ্যাজেন্ট সাগা অ্যান্ডারসনের রোলে উদ্দেশ্যবিহীনভাবে কিছুটা ছুটাছুটি করার মাদ্ধমে, তো আমরা এবার সরাসরি চলে যাচ্ছি হাই সেটিংসে কোন প্রকার রে ট্রেসিং এনাবল না করে নেটিভ ১৪৪০পি এর রেসাল্টসে।

গিগাবাইট গেমিং ওসি ৯০৭০ এক্সটি কার্ডটি এখানে প্রথম স্থান অধিকার করেছে অ্যাভারেজে ৯৫ এফপিএস নিয়ে, ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ এবং পাওয়ার কালার ৯০৭০ এক্সটি রিপার কার্ড দুটির পারফর্মেন্স প্রায় নেক এন্ড নেক, আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই এখানে সবার শেষে থাকলেও এটাও মাথায় রাখতে হবে যে এনভিডিইয়া কার্ডগুলো এইখানে সুপেরিওর ইমেজ কোয়ালিটি প্রোভাইড করছে। এবারে চলে যাচ্ছি ফোরকে রেজোলিউশানের রেসাল্টসে। গিগাবাইটের আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি গেমিং ওসি কার্ডটি এবারেও ফার্স্ট প্লেসে রয়েছে, অ্যাভারেজ ফ্রেম রেইট অল্পের জন্য ৫০ এফপিএস ছুঁতে পারলো না, ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ এবং রিপার ৯০৭০ এক্সটি’র পারফর্মেন্স এখানেও নেক এন্ড নেক, আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই অ্যাভারেজের দিক থেকে মাত্র এক এফপিএস পিছিয়ে, সত্যি কথা বলতে এই রেজোলিউশানে এই কার্ডগুলোর পারফর্মেন্স প্রায় একই,কাজেই এইখানে একটা ফোর ওয়ে টাই হয়েছে বললে খুব একটা ভুল হবে না।

 

এবারে চলে যাচ্ছি ১৪৪০পি হাই রে ট্রেসিং রেসাল্টসে, এই প্রিসেটে পাথ ট্রেসিং, ডিএলএসএস রে রি কন্সট্রাকশনের মতো ফিচারসগুলো ব্যাবহার হয়ে থাকে, এএমডি আরডিএনএ ফোর আর্কিটেকচারে রে ট্রেসিং পারফর্মেন্স ইম্প্রুভ করলেও পাথ ট্রেসিং পারফর্মেন্স এখনো এনভিডিইয়ার লেভেলে পৌছায়নি, একারণেই এই চার্টে এএমডি’র সবকটি কার্ডের পারফর্মেন্স দেখানো হয়নি, কোন প্রকার আপ্সকেলিং এবং ফ্রেম জেনারেশনের মতো সাপ্লিমেন্টারি টেকনোলোজি ছাড়া নেটিভ ১৪৪০পি রেজোলিউশানের রেন্ডারিংয়ে এনভিডিইয়া কার্ডগুলোতে এই ৩০ থেকে ৩২ ফ্রেমের পারফর্মেন্স দেখাটাই স্বাভাবিক, এএমডি এখানে এনভিডিইয়ার ঠিক প্রায় অর্ধেক পারফর্ম করছে, হনেস্টলি স্পিকিং, এইরকম পারফরমেন্স দেখার পরে এই সেটিং দিয়ে আর ফোরকে রেজোলিউশানে টেস্ট করার সাহস হয়নি, এনভিডিইয়া হয়তো এখেত্রে ১৫ থেকে ১৬ ফ্রেমের মতো পারফর্ম করলেও রেডিওন পারফরমেন্স সিঙ্গেল ডিজিটসে নেমে আসবে যা দেখে আপনার আমার সবারই সময় নষ্ট হবে।

Black Myth: Wukong

অ্যাকশন আরপিজি’র জগতে ট্রিপোল অ্যা গেমিংয়ে বেশ সাড়া জাগানো একটি টাইটেল হচ্ছে ব্ল্যাক মিথ উ কং। আন্রিয়াল ইঞ্জিন ফাইভে ডেভেলপ করা এই টাইটেল্টির ডেডিকেটেড বেঞ্চমার্ক টুলটি দিয়ে ১৪৪০পি এবং ফোরকে রেজোলিউশানে ভেরি হাই প্রিসেট এবং ভেরি হাই আরটি প্রিসেট দিয়ে আজকের কম্প্যারিজনের কার্ডগুলোকে টেস্ট করেছি, চলে যাচ্ছি ১৪৪০পি রেজোলিউশানের বেঞ্চমার্কে।

 

কালারফুলের আরটিএক্স ৪০৮০ ব্যাটল এক্স কার্ডটি অ্যাভারেজে প্রায় ৮১ এফপিএস নিয়ে চার্টে এক নাম্বার পজিশনে আছে, গিগাবাইটের আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই গেমিং ওসি কার্ডটি এখানে আরটিএক্স ৪০৮০ এর সাথে অল্মোস্ট নেক এন্ড নেক পারফর্ম করছে, গিগাবাইট ৯০৭০ এক্সটি গেমিং ওসি কার্ডটি প্রায় ৬১ এফপিএস নিয়ে থার্ড পজিশনে আছে, পাওয়ার কালার ৯০৭০ এক্সটি রিপার কার্ডটি মাত্র এক ফ্রেমের অভাবে অ্যাভারেজে ৬০ ধরে রাখতে পারলো না, এই গেমটি কিছুটা এনভিডিইয়া প্রিফার করে তা এই রেসাল্টসগুলো দেখে ক্লিয়ারলি বোঝা যাচ্ছে, চলে যাচ্ছি ফোরকে রেসাল্টসে।

ফোরকে রেসাল্টসেও ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ প্রায় ৭৫ এফপিএস অ্যাভারেজ করছে, আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই মাত্র দেড় এফপিএস পিছিয়ে, দেখতে পাচ্ছি এনভিডিইয়া কার্ডগুলোতে ১৪৪০পি থেকে ফোরকেতে খুব অল্পই পারফরমেন্স রিডিউস হয়েছে, অন্য দিকে রেডিওন কার্ডগুলোতেও ১৪৪০পি এর তুলনায় পারফরমেন্স খুব একটা রিডিউস না হলেও পারফরমেন্স গ্যাপ বিশাল।

এবারে ভেরি হাই কোয়ালিটি রে ট্রেসিং এনাবল করে ১৪৪০পি নেটিভ রেজোলিউশানে টেস্ট করতেই আরটিএক্স ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ এবং আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই এর মাঝে পারফরমেন্সে লিটারালি কোন তফাৎ নেই, এএমডি কার্ডগুলোর পারফর্মেন্স এখানে এক্স্যাক্টলি এনভিডিইয়া কার্ডের অর্ধেক, পাথ ট্রেসিং মানেই এএমডি কার্ডের পারফর্মেন্স মুখ থুবড়ে পড়া, তবে আশা করি রে ট্রেসিং পারফরমেন্সে এএমডি’র ইম্প্রুভমেন্টসের নমুনা খুব শীঘ্রই আপনারা দেখতে পাবেন।

Cyberpunk 2077

আরপিজি জনরা বিশেষ করে উইচার সিরিজের গেমগুলোর জন্য বিখ্যাত ডেভেলপার সিডিপিআরের সাইবারপাঙ্ক ২০৭৭ রে ট্রেসিং, পাথ ট্রেসি, ডিএলএসএস এবং ফ্রেম জেনারেশন টেকনোলোজি শো কেসিং এর জন্য এনভিডিইয়া’র ব্র্যান্ডের পোস্টার চাইল্ড, গ্রাফিক্স কার্ড বেঞ্চমার্ক হবে কিন্তু সাইবারপাঙ্ক থাকবে না তা হতে পারে না, ইন গেম আল্ট্রা গ্রাফিক্স সেটিংস সেট করে আপ্সকেলিং বন্ধ করার মাধ্যমে আমরা গেমটি টেস্ট করেছি ইন গেম বেঞ্চমার্কটি সামান্য মড করে, চলুন দেখে নেই রেসাল্টসগুলো।

নেটিভ ১৪৪০পিতে গিগাবাইট আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি গেমিং ওসি কার্ডটি চার্ট টপ করছে অ্যাভারেজ ১১৮ এফপিএস নিয়ে, পাওয়ার কালার রিপার ৯০৭০ এক্সটি কার্ডটি এখানে সেকেন্ড প্লেসে আছে প্রায় ১১৫ এফপিএস, আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই গেমিং ওসি এখানে অ্যাভারেজে ১১৩ এফপিএস নিয়ে থার্ড প্লেইসে আছে, আরটিএক্স ৪০৮০ ব্যাটল এক্স সবার শেষে আছে ১০৭ অ্যাভারেজ এফপিএস নিয়ে, সাইবারপাঙ্কের র‍্যাস্টার আল্ট্রা প্রিসেটে রেডিওন বেশ শক্ত পারফর্মেন্স দেখাচ্ছে, এবারে চলে যাচ্ছি নেটিভ ফোরকে প্রিসেটের রেসাল্টসে।

 

নেটিভ ফোরকে রেসাল্টসের চার্টে আর আগের মতো শত শত এফপিএস দেখা যাচ্ছে না, গিগাবাইটের আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি গেমিং ওসি এখানে অ্যাভারেজে ৫০ এফপিএস নিয়ে টপ স্পটে আছে, ৯০৭০ এক্সটি রিপার কার্ডটি এখানে দুই এফপিএসের জন্য অ্যাভারেজে ৫০ এফপিএস মিস করেছে, আরটিএক্স ৪০৮০ এখানে প্রায় ৪৪ এফপিএস অ্যাভারেজ করছে, আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই অ্যাভারেজে প্রায় ৪২ এফপিএস স্কোর করেছে, রেডিওন কার্ডগুলো বেশ স্ট্রং মিনিমাম ফ্রেম্রেট মেইন্টেইন করতে সক্ষম হয়েছে, এনভিডিইয়া কার্ডে আবার মিনিমাম এফপিএস ৪০ এর নিচে নেমে এসেছে, এই রেজোলিউশানে এই সেটিংয়ে সিক্সটি এফপিএস মেইন্টেইন করতে হলে অপ্টিমাইজড সেটিংস অথবা আপ্সকেলিং এর শরণাপন্ন হতে হবে।

এবারে নেটিভ ১৪৪০পি রেজোলিউশানে আল্ট্রা রে ট্রেসিং প্রিসেটের টেস্ট রেসাল্টসগুলো দেখে নেয়া যাক। অ্যাভারেজে প্রায় ৬৭ এফপিএস নিয়ে ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ কার্ডটি প্রথম প্লেসে আছে, সেকেন্ড স্পটে আছে আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই গেমিং ওসি যা প্রায় ৬৬ এফপিএস স্কোর করেছে অ্যাভারেজে, অর্থাৎ টপ স্পটের জন্য এই দুই কার্ডটিকে অল্মোস্ট টাইড বলা চলে, গিগাবাইট আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি গেমিং ওসি প্রায় অ্যাভারেজে ৫৮ এফপিএস স্কোর করেছে, লাস্ট প্লেইসে পাওয়ার কালার ৯০৭০ এক্সটি রিপার কার্ডটি অ্যাভারেজে ৫৬ এফপিএস স্কোর করেছে, এই দুই কার্ডের মাঝেও পারফর্মেন্সের ডিফারেন্স নেগ্লিজিবল, এএমডি’র রে ট্রেসিং পারফর্মেন্স যে এখন বেশ ডিসেন্টলি ইম্প্রুভ হয়েছে তা এই কম্প্যারিজন থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এবারে চলে যাচ্ছি নেটিভ ফোরকে রেসাল্টসে।

 

ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ এবং আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই গেমিং ওসি কার্ড দুটির পারফর্মেন্স অল্মোস্ট এক্স্যাক্টলি দি সেইম, রেডিওন কার্ড দুটিতে এই সেটিংয়ে পারফর্মেন্সের ডিফারেন্স আধা এফপিএসের মতো, নেটিভ ফোরকে রেজোলিউশানে এই গেমটি এই সেটিঙ্গে যদি কেউ সিনেম্যাটিক থারটি এফপিএসে এঞ্জয় করতে চান, করতে পারেন, কিন্তু যদি সিক্সটি এফপিএসে যদি খেলতেই হয়ে, ডিজিটাল ফাউন্ড্রির অপ্টিমাইজড সেটিংসের পাশাপাশি আপ্সকেলিং ব্যাবহার করতে হবে।

Dying Light 2

পোলিশ ডেভেলপার টেক্ল্যান্ডের ফাস্ট পেসড পার্কর এবং অ্যাকশন গেম ডাইয়িং লাইট টু এর রিলিজের সময় রে ট্রেসিং এর শো কেসের জন্য বেশ ভালো একটা এক্স্যাম্পল ছিলো,এই গেমটি আমরা র‍্যাস্টার এবং হাই কোয়ালিটি রে ট্রেসিং এই দুই সেটিংয়েই টেস্ট করেছি এর বিল্টিন বেঞ্চমার্কটি দিয়ে, শুরুতেই দেখে নিচ্ছি নন রে ট্রেসিং হাই কোয়ালিটি প্রিসেটের নেটিভ ১৪৪০পি রেসাল্টস।

 

আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই গেমিং ওসি এবং ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ কার্ড দুটির অ্যাভারেজ ফ্রেম্রেট প্রায় সেইম হলেই ৫০৭০ টিআই মিনিয়াম ফ্রেম্রেটের দিক থেকে এগিয়ে, ম্যাক্স ফ্রেম্রেটের দিক থেকে আবার আরটিএক্স ৪০৮০ বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে, রেডিওন কার্ড দুটির পারফর্মেন্সের মাঝে তেমন কোন তফাৎ নেই, তবে এনভিডিইয়া কাউন্টারপার্টের তুলনায় এই পারফর্মেন্স কিছুটা ডিজাপয়েন্টিং, তবে কি আরডিএনএ ফোর ডাইরেক্ট এক্স এলেভেন টাইটেলগুলোতে কিছুটা ড্রাইভার অভারহেড ইস্যুর শিকার কিনা সেটাও ভাবতে হচ্ছে।

 

এবারে ফোরকে রেসাল্টসের দিকে তাকালে আমরা চার্টে দেখতে পাচ্ছি যে ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ এবং আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই গেমিং ওসি কার্ড দুটির পারফর্মেন্সে বলার মতো তেমন কোন পার্থক্যই নেই, আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি গেমিং ওসি এবং রিপার কার্ড দুটির মাঝে অ্যাভারেজ এফপিএসের তফাৎ মাত্র তিন এফপিএসের মতো, অভারওল এই কার্ডগুলোতে এই গ্রাফিক্স প্রিসেটে এই গেমটি বেশ ভালোভাবেই খেলা যাবে, এবারে চলে যাচ্ছি হাই কোয়ালিটি রে ট্রেসিং গ্রাফিক্স প্রিসেটে নেটিভ ১৪৪০পি রেসাল্টসে।

ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ এবং আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই গেমিং ওসি এর অ্যাভারেজ এফপিএস ডিফারেন্স লিটারালি আধা এফপিএসের মতো, অর্থাৎ এই দুইয়ের পারফরমেন্সের মাঝে কোন তফাৎ আপনি রিয়াল টাইমে রিয়ালাইজ করতে পারবেন না, গিগাবাইট রেডিওন আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি গেমিং ওসি এবং পাওয়ার কালার রিপার ৯০৭০ এক্সটি কার্ড দুটির মাঝেও অ্যাভারেজ ফ্রেম্রেইটের পারফর্মেন্সের ডিফারেন্স মাত্র তিন এফপিএস, আরডিএনএ ফোর রে ট্রেসিংয়ে হিউজ ইম্প্রুভমেন্ট শো করছে যা অবশ্যই প্রশংসনীয়, তবে এর পরেও এই এনভিডিইয়া এখানে বেশ বড়ো একটি লিড নিয়ে আছে। এবারে চলে যাচ্ছি ফোরকে রেসাল্টসে।

ফোরকে রেসাল্টসের চার্টের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ এবং আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই এর পারফর্মেন্সের মাঝে লিটারালি কোন তফাৎ নেই, যা আছে তা মার্জিন অফ এরর বললে ভুল হবে না, আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি গেমিং ওসি এবং রিপার এই দুই কার্ডের পারফর্মেন্সের তফাৎ মাত্র আধা এফপিএস এর মতো, ফোরকেতে এই পারফর্মেন্স অবশ্যই প্রশংসনীয়, তবে বেটার গেমিং এক্সপেরিয়েন্সের জন্য সামান্য কিছুটা সেটিংস অ্যাডজাস্টমেন্টের পাশাপাশি আপ্সকেল ইউজ করলে খুব সহজেই সিক্সটির উপরে পারফর্মেন্স লেভেল ম্যাইন্টেইন করা পসিবল হবে।

Forza Horaizon 5

রেসিং গেম ফ্যানদের মাঝে বহুল সমাদৃত ফর্যা হরাইজন সিরিজের ফিফথ টাইটেলটি ডাইরেক্ট এক্স টোয়েল্ভের একটি দারুণ শো কেইস এবং খুবই ওয়েল অপ্টীমাইজড টাইটেল,  আমরা এই গেমটি টেস্ট করেছি গেমটির ইন গেম বেঞ্চমার্কটি ইউজ করে, টেস্টিং এর জন্য আমরা ইউজ করেছি এক্সট্রিম প্রিসেট, চলে যাচ্ছি ১৪৪০পি রেসাল্টসে।

রেসাল্টসে অ্যাভারেজ ফ্রেইমরেটের দিক থেকে গিগবাইটের আরএক্স ৫০৭০ টিআই এবং আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি এই দুই গেমিং ওসি কার্ড দুটির পারফর্মেন্স একদম আইডেন্টীক্যাল, ৫০৭০ টিআই এখানে বেটার মিনিমাম ফ্রেমরেইট মেইন্টেইন করলেও ম্যাক্স ফ্রেম্রেইটের দিক থেকে আরটিএক্স ৯০৭০ এক্সটি এগিয়ে, আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি রিপার কার্ডটি ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ কার্ডটিকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে, তবে অভারোল সবকটি কার্ডের পারফর্মেন্সই বেশ ভালো, এবারে চলে যাচ্ছি ফোরকে রেসাল্টসে।

ফোরকেতে আমরা যে পারফর্মেন্স ফিগারসগুলো দেখতে পাচ্ছি, তাতে বলা চলে ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ কার্ডটি ছাড়া বাকি তিনটি কার্ডে পারফর্মেন্স উইদিন মার্জিন অফ এরর, আপনি এফপিএস কাউন্টার অন করে সাইড বাই সাইড পারফর্মেন্স কম্পেয়ার করলে ও বলার মতো তেমন কোন তফাৎ পাবেন না, এখানে সবকটি কার্ড থেকেই খুব ডিসেন্ট পারফর্মেন্স পাওয়া গিয়েছে।

Horizon Forbidden West

এক সময়ের প্লে স্টেশন এক্সক্লুসিভ হরাইজন ফরবিডেন ওয়েস্টের পিসি পোর্টটি বেশ ওয়েল অপ্টিমাইজড অবস্থায় পিসিতে রিলিজ পায়, অত্যন্ত ভাইব্রেন্ট এবং কালারফুল এনভায়রন্মেন্টের এই অ্যাকশন অ্যাডভেঞ্চার গেমটির শুরুর দিকে অ্যালয়কে নিয়ে কিছুটা উদ্দেশ্যবিহীনভাবে দৌড়াদৌড়ি করার মাদ্ধমে আমাদের বেঞ্চমার্ক ডাটাটি রেকর্ড করা হয়েছে, আমরা গেমের সব কিছু ম্যাক্সড আউট করে টিএএ এনাবল করে কোন প্রকার আপ্সকেলিং ছাড়াই এই গেমটি টেস্ট করেছি, চলে যাচ্ছি ১৪৪০পি রেসাল্টসে।

এএমডি’র আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি গেমিং ওসি এবং রিপার, ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ এই কার্ড তিনটির পারফর্মেন্সের মাঝে কোন প্রকার তফাৎ নেই বললেই চলে, আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই এখানে অ্যাভারেজে প্রায় ১১৫ এফপিএস স্কোর করেছে এবং এই ক্ষেত্রে র‍্যাঙ্কিংয়ে সেকেন্ড প্লেস দাবি করতেই পারে, সত্যি বলতে এএমডি’র আরডিএনএ ফোর কার্ডগুলো এই গেমটিতে এদের ওয়েইট ক্ল্যাসের অনেক উপরে পাঞ্চ করছে যা দেখে ভালো লাগছে।

এবারে চলে আসছি ফোরকে রেসাল্টসে, কার্ডগুলোর পারফর্মেন্সে এখানে লিটারালি কোন তফাৎ নেই এই কনফিগারেশনে, আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই আবারো সেকেন্ড প্লেস দাবি করলেও হনেস্টলি অ্যাভারেজের এই তিন এফপিএসের ডিফারেন্স আপনি কোনভাবেই টের পাবেন না, সিঙ্গেল প্লেয়ার এক্সপেরিয়েন্সের জন্য এই পারফর্মেন্স খুবই ডিসেন্ট।

Metro Exodus Enhanced Edition

মেট্রো এক্সোডাস গেমটির সাথে আশা করি নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার প্রয়োজন হবে না, এই গেমটির একটি ডেডিকেটেড রে ট্রেসিং ভার্সন হচ্ছে এর এনহ্যান্সড এডিশন, আপনার গ্রাফিক্স কার্ডে রে ট্রেসিং সাপোর্ট না থাকলে এই গেমটি আপনি রান করতে পারবেন না, আমরা এই গেমটি টেস্ট করেছি এর সাথে আসা বেঞ্চমার্ক টুল দিয়ে এক্সট্রিম প্রিসেট দিয়ে, চলে যাচ্ছি ১৪৪০পি রেসাল্টসে।

চার্ট টপার হিসেবে এখানে কালারফুল ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ গ্রাফিক্স কার্ডটিকে দেখা যাচ্ছে, খুব সারপ্রাইজিংলি একটি রে ট্রেসিং টাইটেলে এএমডি’র রেডিওন কার্ড দুটি এখানে আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই গেমিং ওসি কার্ডটির সাথে তাল মিলিয়ে চলছে, ইন ফ্যাক্ট গিগাবাইটের গেমিং ওসি ভ্যারিয়েন্টের ৯০৭০ এক্সটি কার্ডটি এখানে সামান্য একটু ফাস্টার। এবারে চলে যাচ্ছি ফোরকে রেসাল্টসে।

এই রেসাল্টসেও চার্টে টপ স্পট দখল করে আছে আরটিএক্স ৪০৮০, আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই এবং আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি রিপার কার্ডটির পারফর্মেন্সে বলার মতো কোন তফাৎ নেই, আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই এর গেমিং ওসি কাউন্টারপারটের তুলনায় অ্যাভারেজে সামান্য একটু পিছিয়ে, অভারওল পারফর্মেন্সের বিচারে এখানে রেডিওন কার্ডগুলো খুব ভালো পারফর্ম করেছে, এবং আরডিএনএ ফোর এর রে ট্রেসিং পারফর্মেন্সের যে ইম্প্রুভমেন্ট হয়েছে তার চাক্ষুষ প্রমাণ হচ্ছে এই রেসাল্টসগুলো।

Returnal

রোগ লাইক থার্ড পারসন শুটার এবং এক সময়ের প্লে স্টেশনের এক্সক্লুসিভ টাইটেল রিটার্নাল গেমটি সমসময়য়ের পিসি পোর্টগুলোর চেয়ে একটু ভালো অবস্থায় পিসিতে রিলিজ হয়েছিলো, এই গেমটিতে আমরা সাধারণত এফপিএসের বন্যা দেখে থাকি, এই জন্য আমরা নন রে ট্রেসড এপিক সেটিংসে গেমটিকে সরাসরি ফোরকে রেজোলিউশানে টেস্ট করেছি।

চার্টের দিকে তাকালে আমরা এক নজরে দেখতে পাবো যে কম বেশি সব কটি গ্রাফিক্স কার্ডই এই রেজোলিউশান এবং সেটিংসে প্রায় একই রকম পারফর্ম করে, এদের মাঝে যে ডিফারেন্স তা মার্জিন অফ এরর স্টাফ। এবারে রে ট্রেসিং এনাবল করে আমরা নেটিভ ১৪৪০পি রেজোলিউশানের রেসাল্টসগুলো দেখে নেই।

 

 

রে ট্রেসিং এনাবল করার পরেও হনেস্টলি এই গ্রাফিক্স কার্ডগুলোর পারফর্মেন্সের ডিফারেন্স খুবই নেগ্লিজিবল, তবে এখানে যা না উল্লেখ করলেই নয় সেটি হলো এএমডি কার্ড দুটিতে রে ট্রেসিং এনাবল করার পরে আমরা স্লাইটলি লঙ্গার লোডিং টাইম এবং কিছু শেডার ক্যাশিং রিলেটেড স্টাটার অবসারভ করেছি, তবে স্ক্রিনে এই ইফেক্টসগুলো এক দুইবার ইনিশিয়ালাইজ হলে স্টাটারের ভাবটা চলে যায়, এবারে চলে আসছি ফোরকে নেটিভ রেসাল্টসে।ফাইনালি ফোরকে রেসাল্টসে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এএমডি এবং এনভিডিইয়ার মাঝে কিছুটা তফাৎ দেখা যাচ্ছে, এনভিডিইয়া কার্ড দুটির পারফর্মেন্স খুবই সিমিলার, ঠিক তেমনিভাবে এএমডি কার্ডগুলোর পারফর্মেন্সও খুব সিমিলার, গুড পারফর্মেন্স অভারওল, এএমডি রে ট্রেসড পারফর্মেন্সের ইম্প্রুভমেন্টসের ট্রেন্ড এই টাইটেল্টিতেও ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

The Last Of Us

নটি ডগসের দ্যা লাস্ট অফ আসের পিসি পোর্টটি রিলিজের সময় খুব একটা ভালো অবস্থায় ছিলো না, তবে একের পর এক আপডেটের পর এই গেমটির পারফর্মেন্স অনেকটাই স্ট্যাবল, আমাদের আজকের টেস্টের গ্রাফিক্স কার্ডগুলো সবই ১৬ জিবি ভিডিও মেমোরি বিশিষ্ট তাই আমরা সরাসরি আলট্রা প্রিসেট সিলেক্ট করছি, চলে যাচ্ছি নেটিভ ১৪৪০পি রেসাল্টসে।

আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই গেমিং ওসি ছাড়া  আর সব কটি কার্ডের পারফর্মেন্স এখানে ইন অ্যাভারেজ প্রায় সেইম, ৫০৭০ টিআই কার্ডটিতে কখনো কখনো স্ট্রিমিং রিলেটেড স্টাটার দেখা গিয়েছে, এটা খুব সম্ভব আরটিএক্স ৫০০০ সিরিজ স্পেসিফিক ইস্যু, দেখতে ভালো লাগছে যে এএমডি’র আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি কার্ড দুটি এর চেয়ে অনেক এক্সপেন্সিভ কম্পিটিশনের কার্ডগুলোর চেয়ে এই গেমটিতে বেটার পারফর্ম করছে, এবারে চলে যাচ্ছি ফোরকে রেসাল্টসে।

 

 

ফোরকে রেসাল্টসে গিগাবাইট গেমিং ওসি ৯০৭০ এক্সটি কার্ডটি অ্যাভারেজে ৭৮ এফপিএস স্কোর করেছে, এর চাচাতো ফাই পাওয়ার কালার রিপার ৯০৭০ এক্সটি এইখানে অ্যাভারেজে ৭৬ এফপিএস স্কোর করেছে, এদের ১% এবং ০.১% ফ্রেম্রেট ও বেশ স্ট্যাবল, ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ এখানে অ্যাভারেজে ৭২ এফপিএস পেলেও এর ১% এবং ০.১% লো একটু স্টাটার ইন্ডিকেট করছে, আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই এই টাইটেলটিতে অ্যাভারেজে ৬৬ এফপিএস পেলেও এই কার্ডেও স্টাটারের ইন্ডিকেশন আছে, আশা করছি ফিউচার কোন ড্রাইভার আপডেটে এনভিডিইয়া এই ইস্যুটি ফিক্স করবে।

তো দ্যা লাস্ট অফ আসের সাথে সাথে দ্যা লাস্ট অফ আওয়ার গেমিং বেঞ্চমার্কস ও শেষ হলো, এবারে চলে আসছি ক্লক স্পিড বিহেভিয়ার সেকশনে।

Clock Speed

আমাদের আজকের টেস্টেড কার্ডগুলোর ক্লক স্পিড বিহেভিয়ার সম্পূর্ণই নির্ভর করবে আপনি কেমন রেজোলিউশানে কি ধরণের ওয়ার্কলোড দিচ্ছেন, টেম্পারেচার এবং কুলিং এর পাশাপাশি এদের বোর্ডের পাওয়ার লিমিটের মতো কিছু ভ্যারিয়েবলস এর উপরে,

  • কালারফুল ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ গ্রাফিক্স কার্ডটি নন রে ট্রেসিং ওয়ার্কলোডে আমরা হাইয়েস্ট ২৮০০ মেগাহার্জের মতো বুস্ট করতে দেখেছি নন রে ট্রেসড
  • গিগাবাইট আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই গেমিং ওসি কার্ডটি ফর্যা হরাইজন ফাইভ টাইটেলটিতে ২৮৫০ মেগাহার্জের মতো কোর ক্লক মেইন্টেইন করছে, মেট্রো এক্সোডাস এনহ্যান্সড এডিশনে কার্ডটিকে ২৭৫০~২৭৯০ মেগাহার্জের মতো ক্লক স্পিড মেইন্টেইন করতে দেখা গিয়েছে, এই ফিগারসগুলো অবশ্যই ১৪৪০পি এর মতো প্রযোজ্য।
  • পাওয়ার কালার আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি রিপার কার্ডটি এএমডি’র নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড পাওয়ার ৩০০ ওয়াট পাওয়ার লিমিট মেইণ্টেইন করে, ফর্যা হরাইজন ফাইভ টাইটেলটিতে এই কার্ডটি ৩১০০ মেগা মেগাহার্জের মতো কোর ক্লক মেইন্টেইন করে, মেট্রো এক্সোডাস এনহ্যান্সড এডিশনে আবার এই কার্ডটি ২৬০০ থেকে ২৭৫০ মেগাহার্জের মতো কোর ক্লক মেইন্টেইন করে।
  • Gigabyte AMD Radeon RX 9070 XT Gaming OC কার্ডটির যেহেতু বোর্ডের পাওয়ার লিমিট আউট অফ দ্যা বক্স রেগুলার আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি থেকে বেশি, এটি স্বাভাবিকভাবেই হাইয়ার কোর ক্লক মেইন্টেইন করে, ফর্যা হরাইজন ফাইভ টাইটেলটিতে এই কার্ডটি ৩২০০ মেগাহার্জ থেকে শুরু করে ৩১৭০ মেগাহার্জের আশাপাশি ক্লক স্পিড মেইণ্টেইন করে, মেট্রো এনহ্যান্সড এডিশনের মতো ফুলি রে ট্রেসড ওয়ার্কলোডে আবার ২৯০০ মেগাহার্জ থেকে শুরু করে ২৮০০ মেগাহার্জের আশে পাশেই ঘুরাফেরা করে।

বলে রাখা ভালো, আমাদের এই ডাটাগুলো ১৪৪০পি এর জন্য প্রযোজ্য, আপনি যদি আরো হাইয়ার রেজোলিউশানে গেম খেলেন, তখন এই ক্লক স্পিডে হয়তো আরো কিছুটা হ্রাস দেখতে পাবেন।

Temperature, Fan Noise, and Power Draw.

এই ভিডিওতে টেস্ট করা গ্রাফিক্স কার্ডগুলোর টেম্পারেচার রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এয়ার কন্ডিশন্ড এনভায়রন্মেন্টে। বলে রাখা ভালো আজকের টেস্ট করা সবকটি কার্ডেই ফ্যান স্টপ ফিচারটি আছে, অর্থাৎ কার্ডের টেম্পারেচার ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অথবা কোন প্রকার হাই ডিমান্ডিং ওয়ার্কলোড শুরু হলে কার্ডের ফ্যানগুলো স্পিন করা শুরু করে, অন্যথায় আইডল থাকা অবস্থায় কার্ডের ফ্যানগুলো বন্ধ থাকে। এইখানে একটি বিহেভিয়ারাল বিষয়ে কথা না বললেই নয়, পাওয়ারকালার কার্ডটিতে ড্রাইভার ইন্সটল না করা পর্যন্ত কার্ডের ফ্যানগুলো সামান্য একটু খানি ঘুরে আবার বন্ধ হয়ে যায়, প্রোপার ড্রাইভারস ইন্সটল না করা পর্যন্ত ফ্যান স্টপ ফিচারটি সম্পূর্ণরুপে কাজ করে না, আপাতদৃষ্টিতে এটা দেখে কিছুটা ভীতিকর মনে হলেও আপনাদের আশ্বস্ত করছি যে এটা তেমন কোন ইস্যু না, ড্রাইভার ইন্সটল করা মাত্র এটা ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের গেমিং ওয়ার্কলোড সিমুলেট করার জন্য আমরা ব্যাবহার করেছি থ্রিডিমার্ক স্টিল নোম্যড স্ট্রেস টেস্ট। তো আর কথা না বাড়িয়ে দেখে নেই এই কার্ডগুলো গেমিং বা প্রোডাক্টিভিটি ওয়ার্কলোডের সময় কতোটা থান্ডা বা গরম থাকে।

এনভিডিয়া তাদের ইনফিনিট উইজডোমে এবারের সিরিজের কার্ডগুলোতে কোন প্রকার হটস্পট রিডিং মেসার করতে দিচ্ছে না, যেটা খুবই ফ্রাস্ট্রেটিং, ডিজাপয়েন্টিং এবং একই সাথে কিছুটা সন্দেহজনক ও বটে, কাজেই আমাদের টেস্ট করা গিগাবাইট আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই গেমিং ওসি কার্ডটিতে কোন প্রকার হটস্পট মেসারমেন্ট থাকছে না, তবে ভিডিও মেমোরি টেম্পারেচার এবং জিপিইউ টেম্পারেচার রিডিং এর ডাটা অ্যাভেইলেবল।

RTX 5070ti কার্ডটি আইডলে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর মতো সেটল করে, তবে আইডল টেম্পারেচার আপনার অ্যাম্বিয়েন্ট টেম্পারেচারের উপর অনেকটাই নির্ভর করবে, কম্পিউটার স্টার্ট করা মাত্র আমরা ২৮ থেকে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস আইডল টেম্প ও আমরা দেখেছি, কিন্তু সেটা রিয়াল টাইম ইউজ কেইস রিফ্লেক্ট করে না, হয়তো এই সবকটি

কার্ডেই আপনারা ৩২ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস আইডল টেম্পারেচার দেখতে পাবেন।

  • RTX 5070ti কার্ডটির হাইয়েস্ট রিপোর্টেড টেম্পারেচার ৬৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো, আগেই বলেছি এনভিডিইয়া কোন এক অজানা কারণে এবারের সিরিজের কার্ডগুলোতে হটস্পট মেসার করতে দিচ্ছে না।
  • Colourful RTX BattleX RTX 4080 কার্ডটির জিপিইউ টেম্পারেচার ৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো, এবং এই কার্ডটিতে আমাদের হাইয়েস্ট রেকর্ডেড হটস্পট টেম্পস হচ্ছে ৮২ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  • PowerColor RX 9070 XT Reaper জিপিইউ টেম্পারেচার এসেছে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, হটস্পটে ৮২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, পাওয়ার কালারের এই টেম্পারেচার ফিগারসগুলোও বেশ ইম্প্রেসিভ, বিশেষ করে আপনি যখন এই কার্ডের অভারঅল সাইজ কন্সিডার করবেন, তবে এটাও বলে রাখা ভালো যে এই কার্ডটি এএমডি’র স্টক ৩০০ ওয়াট পাওয়ার কনফিগারেশনে চলছে
  • গিগাবাইটের আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি গেমিং ওসি কার্ডটিতে হাইয়েস্ট জিপিইউ টেম্পারেচার আমরা দেখতে পাচ্ছি ৬১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, জিপিইউ হটস্পট টেম্পারেচার এই কার্ডে মাত্র ৮২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এসেছে, কন্সিডারিং যে এই কার্ডটিতে আউট অফ দ্য বক্স পাওয়ার লিমিট কিছুটা বেশি, এই ফিগারটি ৩৩০ বা ৩৪০ ওয়াটের মতো, এই টেম্পারেচার ফিগারস এই কার্ডের কুলিং যে আসলেই কতোটা ইফেক্টিভ তার প্রমাণ দিচ্ছে।

ওয়ার্কলোড এবং অ্যাম্বিয়েন্ট টেম্পারেচারের উপর ভিত্তি করে অবভিয়াস্লি এই ফিগারসগুলো কম বেশি চেঞ্জ হবে, সিজন চেইঞ্জ হলে, অর্থাৎ গরমকালে আপনি পাঁচ থেকে দশ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বা তারো বেশি টেম্পারেচার ইঙ্ক্রিস দেখতে পাবেন, যদি না আপনার রুমে এসি থাকে আর কি। কার্ড থান্ডা রাখতে হলে চ্যাসিসে ভালো এয়ারফ্লোর কোন বিকল্প নেই, তবে এখানে বাঙ্গালিয়ানা লাইফ হ্যাক হলো চ্যাসিসের সাইড প্যানেল্টিকেই খুলে ফেলা।

এবারে কার্ডগুলোর ভিডিও মেমোরির টেম্পারেচারগুলো দেখে নেয়া যাক।

  • কালারফুল ব্যাটল অ্যাক্স কার্ডে আমরা হাইয়েস্ট রেকর্ডেড মেমোরি জাংশন টেম্পারেচার দেখেছি ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, হনেস্টলি স্পিকিং, এই কার্ডের অভারঅল কুলিং খুবই অ্যামেইজিং
  • গিগাবাইটের আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই গেমিং ওসি’র মেমোরি জাংশন টেম্পারেচার আমরা পেয়েছি হাইয়েস্ট ৬৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  • গিগাবাইটের আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি গেমিং ওসি এবং পাওয়ারকালার রিপার ৯০৭০ এক্সটি কার্ড দুটিতেই আমরা মেমোরি টেম্পারেচার ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস মেমোরি জাংশন টেম্পস আমরা পেয়েছি, এটা অবভিয়াসলি একটি হাই, কিন্তু খুব এইটা চিন্তার বিষয় নয়, গেমিংয়ে এটা বেশিরভাগ সময় ৮০ থেকে ৮৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশেই থাকবে, তবে সামান্য একটু ফ্যান কার্ভ অ্যাডজাস্ট করলে এই টেম্পস কমানো সম্ভব।

 

বলে রাখা ভালো, এইখানে টেস্ট করা সবকটি কার্ড থেকেই কম বেশি কয়েল হোয়াইনের নয়েজ পাওয়া গিয়েছে, হনেস্টলি স্পিকিং, এটাই এখনকার কার্ডগুলোর জন্য এক্সপেক্টেড বিহেভিয়ার, এই কার্ডগুলো অনায়াসে গেমগুলো খেলার সময় ২০০ থেকে ৩০০ ওয়াট বা তারো বেশি পাওয়ার কন্স্যুম করে, সেই সাথে খুব হাই লেভেলের ফ্রেইম্রেট ও পুশ করে থাকে, আপনার সিস্টেমে এরকম পাওয়ার ড্র করা কম্পোনেন্ট থেকে কয়েল হোয়াইন বা সামান্য একটু নয়েজ না আসলেই বরং সেটি একটি অবাক করার মতো বিষয় ছিলো।

এইখানের সবকটি কার্ডেই ফ্যান নয়েজ নাই বললেই চলে, ইন ফ্যাক্ট রেডিওন কার্ডগুলোর ফ্যান কার্ভ একটি বেশিই কন্সারভেটিভ, সামান্য ফ্যান নয়েজ ট্রেইড করলে বেটার মেমোরি টেম্পারেচার অ্যাচিভ করা সম্ভব।

এবারে আসা যাক পাওয়ার ড্র ফিগারসে। এখানে তেমন আউট অফ দ্যা অরডিনারি কোন কিছু চোখে পরে নাই, আইডলে মোটামুটি এই সবকটি কার্ড ১০ থেকে ২০ ওয়াট পর্যন্ত পাওয়ার কন্স্যুম করবে ডিপেন্ডিং অন আপনার ডিস্প্লের রেজোলিউশান এবং রিফ্রেশ রেইট, ফুলি লোডেড অবস্থায় ক্ষেত্র বিশেষে আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই বেশ ইফিশিয়েন্সি শো করেছে, যেমন ফর্যা হরাইজন ফাইভের ক্ষেত্রে, রেডিওন গ্রাফিক্স কার্ডগুলোর পাওয়ার ইফিশিয়েন্সিতে এর আগের জেনারেশনের তুলনায় ডেফিনিট কিছু ইম্প্রুভমেন্টস এসেছে বিশেষ করে রে ট্রেসিং পারফর্মেন্সে, যা প্রশংসনীয়।

Cost Per Frame

আমাদের আজকের টেস্ট করা গ্রাফিক্স কার্ডগুলোর ১৪৪০পিতে অ্যাভারেজ ফ্রেইমরেটগুলোর টোটাল সামকে এর প্রাইসিং এর এগেইন্সটে ভাগ দিয়ে আমরা আমাদের কস্ট পার ফ্রেম অ্যানালাইসিসটি প্রেসেন্ট করছি,

  • আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি কালারফুলের ব্যাটল এক্স আরটিএক্স ৪০৮০ এর কারেন্ট প্রাইসিংয়ে এর থেকে প্রাপ্ত প্রতিটা ফ্রেমে আপনাকে ১০২.৩ টাকা করে গুনতে হচ্ছে,
  • গিগাবাইটের আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই এর কারেন্ট প্রাইসিংয়ে আপনাকে গুণতে হচ্ছে ১০৪.৮ টাকা পার ফ্রেম, যদি এই কার্ডটির প্রাইসিং এর ১,৫০,০০০ এর পরিবর্তে ১,৩০,০০০ ধরা হয় তাহলে এই কস্ট পার ফ্রেম কমে আসে ৯০ টাকাতে,
  • গিগাবাইটের আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি গেমিং ওসি কার্ডটিতে এর কারেন্ট প্রাইসিংয়ে ৮৯.৫ টাকা আসে কস্ট পার ফ্রেমে, এই কার্ডের প্রাইসিং যদি ১ লাখ ৫ হাজার টাকা করা হয় তাহলে এই কস্ট পার ফ্রেম কমে আসে ৭৫ টাকায়,
  • কালারফুল আরএক্স ৯০৭০ এক্সটি রিপার কার্ডটির কস্ট পার ফ্রেম আসছে মাত্র ৭১ টাকা, অর্থাৎ ক্লিয়ারলি ভ্যালু ফর মানি যদি খোঁজেন, তাহলে পাওয়ার কালারের এই কার্ডটি এক লাখ টাকায় সেরা।

Conclusion

বর্তমানে গ্রাফিক্স কার্ডের বাজারে ডিমান্ড এবং সাপ্লাইয়ের সুযোগ নিয়ে প্রাইসিংয়ের যেই হযবরল অবস্থা, কোন পারটিকুলার কার্ডকে রিকোমেন্ড করা খুবই কঠিন। হনেস্টলি স্পিকিং, গিগাবাইটের কার্ডগুলো আমাদের দেশে এসেছিলো হাতে গুণা কয়েকটি উনিট, ইন্টারন্যাশনাল প্রাইসিংয়ের যে অবস্থা এবং এনভিডিইয়ার কার্ডের স্টক খুবই সীমিত থাকায় গিগাবাইটের কার্ডগুলোর প্রাইসিং ছিলো খুবই চড়া, কাজেই এই অস্থিতিশীল প্রাইসিংয়ে একটি কার্ডের মেরিট নির্ধারণ করতে হয় তাহলে তা খুব একটা ফেয়ার হবে না।

  • যারা ডিএলএসএস এবং এনভিডিইয়ার ভক্ত, পাশাপাশি ব্লেন্ডার, থ্রীডি ম্যাক্স, মায়া, ইত্যাদি সফটওয়্যারের উপর রুটি রুজির জন্য নির্ভরশীল, তাদের জন্য এনভিডিইয়া ছাড়া আর কোন গতি নাই। তবে যারা আরজিবি ব্লিং এবং গিগাবাইটের গেমিং ওসি’র আউটলুক পছন্দ করেন, তাদের জন্য গিগাবাইটের কার্ডগুলোও একটি ভালো চয়েস হতে পারে যদি প্রাইসিংটা আরেকটু ভালো করা হয়, আশা করি কার্ডের স্টকের অবস্থার উন্নতি হলে আমরা প্রাইসিংয়ে আরো কম্পিটিশন দেখবো,
  • ইতোমধ্যে বাজারে জোট্যাকের আরটিএক্স ৫০০০ গ্রাফিক্স কার্ড অ্যাভেলেবল হয়েছে যা খুবই কম্পিটিটিভ্লি প্রাইস করা হয়েছে, কালারফুলের আরটিএক্স ৪০৮০ ব্যাটল এক্স কার্ডটিও অনেকটা হিডেন জেমের মতোই যদি আপনি মার্কেটের বর্তমান অবস্থা চিন্তা করেন, আরটিএক্স ৫০৮০ এর প্রাইসিং করা হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার মতো, আর আরটিএক্স ৫০৮০ একটি আরটিএক্স ৪০৮০ কার্ড থেকে বড়জোর ১০% ফাস্টার, তবে আরটিএক্স ৫০০০ এর সাপ্লিমেন্টাল ফিচারস হয়তো ভবিষ্যতে এই কার্ডগুলোর পারফর্মেন্স ডিফারেন্সে আরো বড় মার্জিন ক্রিয়েট করতে সহায়ক হতে পারে।
  • তবে যাদের ফোকাস পিউর গেমিং, বিশেষ করে সিঙ্গেল প্লেয়ার কিংবা ক্যাসুয়াল মাল্টিপ্লেয়ার গেমিং, তাদের জন্য পাওয়ার কালারের রিপার ৯০৭০ এক্সটি গ্রাফিক্স কার্ডটি একটি ভালো চয়েস হতে পারে। সত্যি কথা বলতে, এএমডি’র আরডিএনএ ফোর আর্কিটেকচার এযাত্রায় আসলেই দারুণ ভ্যালু ফর মানি প্রোভাইড করছে, যা শুধু টিম রেডের জন্য নয়, এনভিডিইয়ার ফ্যানদের জন্যেও খেত্রবিশেষে এটি একটা ভালো চয়েস হতে পারে কারণ এখন এএমডিতেও ভালো আপ্সকেলিং এবং মোটামুটি ডিসেন্ট ইমেজ আপ্সকেলিং সাপোর্ট আছে।

Share This Article

Search
kampungbet kampungbet kampungbet kampungbet kampungbet kampungbet kampungbet kampungbet kampungbet kampungbet