MSI বাজেট গেমার থেকে শুরু করে হাইএন্ড গেমার কিংবা পয়সাওয়ালা কনজ্যুমার, যাদের কাছে পিসির লুক ম্যাটার করে বেশী পারফরম্যান্সের চেয়ে; আবার এমন কনজ্যুমার রয়েছে MSI এর লিস্টে যারা কিনা মিডবাজেটে সর্বোচ্চটা চেয়ে থাকে।
আজকের এই গ্রাফিক্স কার্ডটি এমনই একটি গ্রাফিক্স কার্ড , যেটি কিনা কনজ্যুমার’কে একই সাথে প্রিমিয়াম একটা ভাইভ ও পয়সাউসূল পারফরম্যান্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে আমাদের। তো MSI 5060 কতটা তাদের মান ধরে রাখতে পেরেছে, সেটাই আজকের এই রিভিউ’তে আলোচনা,সমালোচনা, পর্যা৮লোচনা হবে।
দাম
বর্তমান বাজারমূল্য খুবই আনস্টেবল। বিশেষ করে বাংলাদেশ মার্কেটে, যেখানে অফিশিয়ালের মধ্যে আনঅফিশিয়াল GPU এর একটা স্থান করে দিয়েছে ব্যাবসায়ীরা। অফিশিয়াল GPU কেনার জন্য PCB Store রেকমেন্ডেড থাকবে, যেহেতু তাদের কাস্টমার সার্ভিস সাথে অফিশিয়াল GPU -এর গ্যারান্টি দিচ্ছে তারা। লেটেস্ট প্রাইস ট্যাগ জানতে হলে PCB Store এর চেয়ে ভরসার জায়গা এই মূহুর্তে হাতে নেই বললেই চলে
প্যাকেজিং ও আনবক্সিং অভিজ্ঞতা
MSI গেমিং সিরিজের নতুন 5000 সিরিজের কার্ডটির প্যাকেজিংয়ে চেনা সেই সিগনেচার ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজই বজায় রাখা হয়েছে। কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর নিয়ন কালার হাইলাইটসের মাঝে রিভিউ ইউনিটটির ছবি বেশ চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বক্সের সামনের দিকে MSI লোগো, ওসি (OC) এডিশন এবং কার্ডটির মডেলের উল্লেখ রয়েছে।
বক্সের উল্টো পাশে তাকালে কার্ডের ছবির পাশাপাশি এর গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটিং বুলেট পয়েন্ট এবং ফিচার সামারি চোখে পড়বে। এছাড়া এখানে তিনটি কিউআর (QR) কোড দেওয়া হয়েছে, যা স্ক্যান করে সরাসরি ইন্সটলেশন গাইড, সেলার রিওয়ার্ড প্রোগ্রাম এবং বিস্তারিত তথ্য দেখে নেওয়া সম্ভব। বক্সের ফ্রন্ট ফ্ল্যাপে ‘Gaming‘ এবং ভেতরে ‘Play Hard, Stay Silent’ স্লোগানটি দিয়ে প্যাকেজিংয়ে একটি প্রিমিয়াম টাচ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
বক্সটি খুললেই প্রোটেক্টিভ ফোমের নিচে অ্যান্টি-স্ট্যাটিক ব্যাগে মোড়ানো আমাদের মূল ইউনিটটি পাওয়া যাবে। রিটেইল ইউনিটগুলোতে ইউজার ম্যানুয়াল থাকলেও আমাদের রিভিউ ইউনিটে তা ছিল না। তবে সত্যি বলতে, এই বাজেটের একটি প্রিমিয়াম কার্ডের প্যাকেজিং অভিজ্ঞতা আরও একটু উন্নত হতে পারত; সামগ্রিকভাবে আনবক্সিং এক্সপেরিয়েন্সকে আমরা ‘অ্যাভারেজ’ বা সাধারণই বলব। দেখা যাক, প্যাকেজিংয়ের এই সাধারণভাব কার্ডটির পারফরম্যান্স এবং লুক দূর করতে পারে কি না।
ডিজাইন ও আউটলুক
কার্ডটির ডিজাইনের দিকে তাকালে শুরুতেই MSI RTX 5060 Ti কার্ডটির কথা মনে পড়ে যাবে। MSI-এর এই গেমিং সিরিজের কার্ডগুলো মূলত তাদের টপ-টিয়ার ‘সুপ্রিম’ সিরিজের ডিজাইন থেকেই অনুপ্রাণিত। তবে এই ডুয়াল ফ্যান ডিজাইনের কার্ডটির ফ্রন্ট শ্রাউডে কোনো আরজিবি নেই, বরং এতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি ক্লিন এবং কম্প্যাক্ট ডার্ক গ্রে থিম। ফ্যানের মাঝখানে সিলভার টেক্সচারের MSI লোগোটি আলোর প্রতিফলনে বেশ উজ্জ্বল দেখায়।
কার্ডটির ব্যাকপ্লেটেও কালো এবং ধূসর রঙের দারুণ কন্ট্রাস্ট রয়েছে। ব্রাশড অ্যালুমিনিয়াম ফিনিশিংয়ের ওপর বড় ফন্টে সাদা রঙে লিখা আছে ‘GeForce RTX’। ডানদিকে এয়ার-ফ্লোর জন্য একটি বড় কাটআউট দেওয়া হয়েছে, যেখানে সিলভার ও ব্ল্যাক কালারের কম্বিনেশনে MSI-এর সিগনেচার ড্রাগন লোগোটি স্থান পেয়েছে। লোগোটিতে সরাসরি আরজিবি না থাকলেও এটি বেশ রিফ্লেক্টিভ, তাই আপনার র্যাম বা কেসিংয়ের আরজিবি লাইট এখানে প্রতিফলিত হয়ে বেশ সুন্দর দেখাবে।
আরজিবি ও কানেক্টিভিটি
কার্ডটির সাইড শ্রাউডের একপাশে ‘GeForce RTX‘ ব্র্যান্ডিং এবং অন্যপাশে MSI-এর লোগোসহ একটি বিশেষ ডিজাইন জোন রয়েছে। শুধুমাত্র এই লোগো অংশটিতেই আরজিবি ইলুমিনেশন দেওয়া হয়েছে, যা সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিজের পছন্দমতো কাস্টমাইজ করা যাবে।
পাওয়ারের জন্য এতে একটি মাত্র ৮-পিন (8-pin PEG) কানেক্টর প্রয়োজন। কার্ডটির অফিশিয়াল টিডিপি (TDP) মাত্র ১৫৫ ওয়াট, তাই এটি বেশ পাওয়ার এফিশিয়েন্ট। MSI এই কার্ডটির জন্য অন্তত 550 watt একটি ভালো মানের পিএসইউ (PSU) রিকমেন্ড করে।
ডাইমেনশন ও আই/ও পোর্ট
কার্ডটির ডাইমেনশন হচ্ছে ২৪৮ x ১৩৫ x ৪১ মিমি। এটি একটি টু-স্লট কার্ড, তাই ছোট বা মাঝারি মানের যেকোনো কেসিংয়ে স্লট ক্লিয়ারেন্স নিয়ে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কার্ডটির ওজন মাত্র ৬৫০ গ্রাম (বক্সসহ প্রায় ৯৭০ গ্রাম), যা বেশ লাইটওয়েট।
ডিসপ্লে আউটপুটের জন্য কার্ডটির আই/ও প্যানেলে দেওয়া হয়েছে:
- ৩টি ডিসপ্লে পোর্ট (DisplayPort 2.1b)
- ১টি এইচডিএমআই পোর্ট (HDMI 2.1b)
সামগ্রিকভাবে, কার্ডটির স্লিক এবং কম্প্যাক্ট লুক যেকোনো ব্ল্যাক থিমের বিল্ডের সাথে চমৎকারভাবে মানিয়ে যাবে। চলুন এবার সরাসরি দেখে নেওয়া যাক এর টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন।
স্পেসিফিকেশন
আরটিএক্স ৫০৬০ এর স্পেক্স নিয়ে আসলে তেমন নতুন করে কিছু বলার নেই,
- তবে আমাদের রিভিউ উনিটটি ফ্যাক্টরি অভারক্লকড অর্থাৎ ওসি এডিশন, স্ট্যান্ডার্ড আরটিএক্স ৫০৬০ কার্ডগুলোর বুস্ট ক্লক যেখানে ২৪৯৭ মেগাহার্জ, সেইখানে আমাদের আজকের রিভিউ উনিটটি বুস্ট ক্লক হচ্ছে ২৬২৫ মেগাহার্জ,
- এতে আছে ৮জিবি জিডিডিআর সেভেন মেমোরি,
- এইট জিবি ভিডিও মেমোরি নিয়ে পিসি কম্যুনিটিতে অনেক তর্ক বিতর্ক হলেও রিয়্যালিটি হচ্ছে এনভিডিইয়া তাদের মিড রেইঞ্জ কার্ডগুলোতে আরটিএক্স ৩০৬০ এর পর থেকে ৮জিবি ভিডিও মেমোরি দিয়েই কনফিগার করে আসছে, যা আপগ্রেড না বরং এক প্রকার ডাউনগ্রেইডই বটে।
- তবে পজিটিভ যদি বলতেই হয়, জিডিডিআর সেভেন মেমোরির ব্যাবহার এবং আরটিএক্স ৪০৬০ এর ৩০৭২টি কুডা কোরের এগেইন্সটে এই কার্ডটিতে কুডা কোর আছে ৩৮৪০টি, তো আর কথা না বাড়িয়ে আমরা চলে যাই আমাদের টেস্ট সিস্টেম স্পেসিফিকেশনের দিকে।
টেস্টিং মেথডোলজি (Testing Methodology)
আমাদের টেস্টিং প্রসেসটি স্বচ্ছ এবং নির্ভুল রাখার জন্য আমরা নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করেছি:
- অ্যাভারেজ রেজাল্ট: প্রতিটি টেস্ট ৩ থেকে ৫ বার রান করে তার গড় (Average) ফলাফল নেওয়া হয়েছে।
- বেঞ্চমার্কস: ইন-গেম বেঞ্চমার্কের ক্ষেত্রে Min/Avg/Max FPS এবং কাস্টম বেঞ্চমার্কের ক্ষেত্রে 1% ও 0.1% Low FPS রেকর্ড করা হয়েছে।
- টার্গেট অডিয়েন্স: কার্ডটি মূলত ১০৮০পি হাই/আল্ট্রা গেমিংয়ের জন্য ডিজাইন করা। আমরা ১০৮০পি এবং ১৪৪০পি রেজোলিউশনে কোনো প্রকার আপস্কেলিং ছাড়াই টেস্ট করেছি।
প্রোডাক্টিভিটি ও এআই বেঞ্চমার্ক (Productivity & AI)
অ্যাডোবি প্রিমিয়ার টেস্ট রেসাল্টস

আমাদের অ্যাডোবি প্রিমিয়ার টেস্টিংইয়ে আমরা চারটি ডিফারেন্ট ডিভাইস থেকে নেয়া ফুটেজ টাইম্লাইনে প্লেব্যাক করে এর নাম্বার অফ ড্রপড ফ্রেমস কাউন্ট করেছি, এবং একটি সিম্পল প্রজেক্ট ক্রিয়েট করে তা রেন্ডার দিয়ে এক্সপোর্ট টাইম মেসার করেছি,
- সনি এফএক্স ৩০ এর ফোরকে ফুটেজ প্লেব্যাকে আমাদের রিভিউ উনিটটি কোন প্রকার ফ্রেম ড্রপ করেনি,
- এরপর আমরা আইফোনে রেকর্ড করা ফোরকে ফুটেজ প্লেব্যাক টেস্ট করেছি, এই টেস্টেও কোন ফ্রেম ড্রপ হয়নি,
- লুমিক্স জিএইচ ফাইভ এসের ফোরকে ফুটেজ প্লেব্যাকেও কোন প্রকার ফ্রেম ড্রপ পাওয়া যায়নি
- ব্ল্যাকম্যাজিকের ফোরকে ফুটেজ প্লেব্যাকে আমরা মাত্র ১৯৭টি ড্রপড ফ্রেমস পাই

এবারে প্রোজেক্ট এক্সপোর্টের পালা, আমাদের টেস্ট প্রজেক্টটি আমাদের টেস্ট সিস্টেমে এমএসআই আরটিএক্স ৫০৬০ দিয়ে প্রজেক্ট এক্সপোর্টে টাইম লেগেছে পাক্কা ০৩ঃ৫০ সেকেন্ড অর্থাৎ এমএসআই এর আরটিএক্স ৫০৬০ গেমিং ওসি কার্ডটি এখানে বেশ ভালো পারফর্ম করছে। চলে যাচ্ছি ব্লেন্ডার টেস্ট রেসাল্টসে।
ব্লেন্ডার টেস্ট

ব্লেন্ডার বেঞ্চমার্ক টুলটি দিয়ে আমরা ব্লেন্ডার ভার্সন ৪.৫.০ টেস্ট করে ৩,৭৭৭ স্কোর করে, এই স্কোর বেশ ডিসেন্ট এবং ব্লেন্ডারে ভিডিও মেমোরি লিমিটেড না হওয়া পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই কাজ চালিয়ে নেয়া যাবে। এবারে চলে যাচ্ছি গিকবেঞ্চ এআই টেস্টের রেসাল্টসে।
গিকবেঞ্চ এআই

গিকবেঞ্চ এআই টেস্টে আমাদের আজকের রিভিউ উনিটটি সিঙ্গেল প্রিসিশনে স্কোর করে ২১,৯১২, হাফ প্রিসিশনে স্কোর করে ৪১,৯৭৫ এবং কোয়ান্টাইজড স্কোর হচ্ছে ১৬,৬৫০। এই স্কোর থেকে এর এমএল বা মেশিন লার্নিং ক্যাপিবিলিটিস এর কিছুটা আন্দাজ পাওয়া যায়, ব্যাপারটা আরো ক্লিয়ার হবে যখন আমরা এমএল স্টুডিও এর রেসাল্টস দেখবো।
এলএম স্টুডিও
এলএম স্টুডিও তে QWEN 32B parameter লোকাল ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল দিয়ে Ai Text Generation test e “TELL ME ABOUT MARS!” Propmtটি Use করেছিলাম ফলাফল প্রতি সেকেন্ডে ৪.৮১ টোকেন জেনারেট করতে সক্ষম ২০১৮টি টোকেন প্রক্রিয়াজাত করে First Token জেনারেট সময় নিয়েছে 1.15s। এই স্কোর আপনারা কি Ai মডেল এতে রান করতে পারবেন একটা আইডিয়া পাবেন।
3DMark Fire Strike
আমাদের সিন্থেটিক বেঞ্চমার্কের শুরুতেই আমরা দেখে নিচ্ছি ৩ডি মার্ক ফায়ার স্ট্রাইক। ডাইরেক্ট এক্স ১১ ভিত্তিক এই বেঞ্চমার্কটি ১০৮০পি রেজোলিউশনে বেশ কিছু ইনটেন্সিভ গ্রাফিক্যাল ইফেক্ট ব্যবহার করে, যা এক সময়কার জিপিইউ-গুলোর জন্য বেশ বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। 
তবে বর্তমান প্রজন্মের কার্ডগুলোর কাছে এই টেস্টটি এখন অনেকটাই সহজ বা “দুধভাতের” মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের হাতে থাকা MSI RTX 5060 Gaming OC কার্ডটি এখানে ওভারঅল ৩৪,৮৭৩ স্কোর করেছে, যেখানে গ্রাফিক্স এবং কম্বাইন্ড টেস্টের স্কোর ছিল যথাক্রমে ৩৯,৫০৯ এবং ১৯,৫৫৭।

এই নাম্বারগুলো রিয়েল টাইম গেমিংয়ে কেমন পারফর্ম করবে, তা বুঝতে আমরা যদি এফপিএস-এর দিকে তাকাই, তবে দেখা যায় গ্রাফিক্স টেস্ট ওয়ানে আমাদের রিভিউ ইউনিটটি গড়ে ১৯৩ এফপিএস এবং টেস্ট টুতে ১৫৪ এফপিএস স্কোর করেছে। এমনকি সবচেয়ে কঠিন কম্বাইন্ড টেস্টেও এটি ৯০ এফপিএস বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। সহজ কথায়, একটু পুরোনো ডাইরেক্ট এক্স ১১ টাইটেলগুলোতে আপনি ডিটেইলস ম্যাক্স-আউট করে অনায়াসেই হাই-রিফ্রেশ রেট গেমিং উপভোগ করতে পারবেন। তবে একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরি, যদি ভিডিও মেমোরি ইউসেজ এর ৮জিবি বাফার সীমা অতিক্রম করে ফেলে, সেক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে কিছুটা স্টাটারিং বা ফ্রেম ড্রপ দেখা দিতে পারে।
Fire Strike Extreme
ফায়ার স্ট্রাইকের ইমিডিয়েট বড় ভাই হচ্ছে এই এক্সট্রিম ভার্সন। এটি মূলত ১৪৪০পি রেজোলিউশনে ইফেক্টগুলোর ইনটেনসিটি বাড়িয়ে কার্ডের ওপর বেশ গ্রাফিক্যাল চাপ তৈরি করে। এক সময় এই টেস্টটি রান করতে ডুয়াল গ্রাফিক্স কার্ড বা এসএলআই কনফিগারেশনের প্রয়োজন হতো, কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির কল্যাণে এখন একটি মিড-রেঞ্জ কার্ডই এটি সামলানোর জন্য যথেষ্ট। আমাদের ওভারঅল ১৭,৪২৭ স্কোর সেই সক্ষমতারই প্রমাণ দিচ্ছে। গ্রাফিক্স এবং কম্বাইন্ড স্কোরেও এটি বেশ সম্মানজনক ফলাফল ধরে রেখেছে।


ফ্রেমরেটের দিকে তাকালে দেখা যায়, মাত্র ৪ ফ্রেমের জন্য আমাদের রিভিউ ইউনিটটি ১০০-র ঘর ছুঁতে পারেনি, তবে ৯৬ এফপিএস মোটেও মন্দ নয়। এছাড়া জিটি-টু এবং কম্বাইন্ড টেস্টে যথাক্রমে ৬৫ এবং ৪১ এফপিএস থেকে আমরা কার্ডটির রিয়েল টাইম গেমিং সক্ষমতার একটা পরিষ্কার ধারণা পাই।
Fire Strike Ultra
ফায়ার স্ট্রাইক যদি হয় ছোট আর এক্সট্রিম যদি হয় মেজো, তবে ফায়ার স্ট্রাইক আল্ট্রা হচ্ছে এই সিরিজের সবচেয়ে বড় ভাই। ৪কে রেজোলিউশনে অ্যানিসোট্রপি এবং টেসেলেশন ফ্যাক্টরের মতো ফিচারগুলো ইনক্রিজ করার মাধ্যমে এটি জিপিইউ-এর ওপর আল্ট্রা লেভেলের ওয়ার্কলোড তৈরি করে। আর সেই ওয়ার্কলোডের ইম্প্যাক্ট আমরা স্কোরকার্ডেও দেখতে পাচ্ছি; আমাদের স্কোর এক্সট্রিম প্রিসেটের তুলনায় প্রায় অর্ধেকের নিচে নেমে ৮,৭৪৬-এ দাঁড়িয়েছে।


এফপিএস-এর ক্ষেত্রেও চিত্রটা একই, জিটি-ওয়ানে ৫০-এর নিচে এবং জিটি-টু-তে মাত্র ৩০ এফপিএস। এতেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে, ডিএলএসএস, ফ্রেম জেনারেশন বা অপ্টিমাইজড সেটিংস ছাড়া এই কার্ডটি দিয়ে নেটিভ ৪কে গেমিং বেশ কষ্টসাধ্য হবে।
Port Royal
রে ট্রেসিং পারফরম্যান্স যাচাই করার জন্য অন্যতম নির্ভরযোগ্য টেস্ট হলো পোর্ট রয়্যাল। এখানে আমাদের আজকের ইউনিটটি ৮,৯০৮ স্কোর করেছে, যা গড়ে প্রায় ৪১ এফপিএস-এর সমান। আরটিএক্স ৪০৬০-এর পারফরম্যান্স যেখানে ২৭ এফপিএস-এর আশেপাশে ছিল, সেখানে জেনারেশনাল ইম্প্রুভমেন্টটা কিন্তু এখানে বেশ চোখে পড়ার মতো।


তবে মনে রাখা ভালো, এটি একটি সিন্থেটিক বেঞ্চমার্ক; রিয়েল টাইম গেমিংয়ে এই উন্নতির মাত্রা গেমের অপ্টিমাইজেশন এবং অন্যান্য ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করবে।
Speed Way


ডাইরেক্ট এক্স আল্টিমেট ফিচারের সক্ষমতা দেখতে আমরা ব্যবহার করেছি স্পিড ওয়ে। এটি বেশ ইনটেন্সিভ একটি টেস্ট যা জিপিইউ-কে বেশ ভালোই স্ট্রেস দেয়। এখানে আমাদের স্কোর এসেছে ৩,৬৫১, যা গড়ে প্রায় ৩৬.৫২ এফপিএস-এর সমান। ৪০৬০-এর পুরোনো ড্রাইভারে যেখানে আমরা ২৬ এফপিএস দেখেছিলাম, সেই তুলনায় এটি বেশ ভালো ফলাফল। আশা করছি সামনে আমরা এই দুই জেনারেশনের একটি সরাসরি হেড-টু-হেড ব্যাটল আপনাদের দেখাতে পারবো।
Steel Nomad


র্যাস্টার গ্রাফিক্স বেসড টেস্টের মধ্যে বর্তমানে স্টিল নোম্যাড বেশ জনপ্রিয়। ১৪৪০পি-তে রেন্ডার হওয়া এই টেস্টটি বর্তমানের লেটেস্ট ট্রিপল-এ টাইটেলগুলোর পারফরম্যান্সের একটি দারুণ ইন্ডিকেটর। এখানে আমাদের রিভিউ ইউনিটটি ৩,২৭২ স্কোর করেছে, যা এফপিএস-এ কনভার্ট করলে দাঁড়ায় ৩২.৭৩। রেফারেন্স হিসেবে বলা যায়, ৪০৬০-তে আমরা যেখানে ২২ এফপিএস পেয়েছিলাম, সেখানে এই কার্ডটি বেশ শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে।
Time Spy


সিন্থেটিক রেজাল্টসের একদম শেষদিকে আমরা দেখে নিচ্ছি টাইম স্পাই। ডাইরেক্ট এক্স ১২-এর সূচনালগ্নে এই টেস্টটি ১৪৪০পি রেজোলিউশনে গ্রাফিক্স কার্ডগুলোকে বেশ যন্ত্রণা দিলেও বর্তমান প্রজন্মের জন্য এটি এখন বেশ সহজ একটি টাস্ক।
এখানে আমরা ১৪,০৩৪-এর মতো বেশ ভালো একটি ওভারঅল স্কোর পেয়েছি। এফপিএস-ও ছিল বেশ সন্তোষজনক, জিটি-ওয়ানে ৯২ এবং জিটি-টু-তে ৮১। তবে ‘বসের ওপরেও বস থাকে’, আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই আমরা এখন নজর দিচ্ছি এর এক্সট্রিম ভার্সনের দিকে।
Time Spy Extreme

টাইম স্পাই-এর ইফেক্টগুলোর ইনটেনসিটি বাড়িয়ে রেজোলিউশন যদি ৪কে করা হয়, তবেই পাওয়া যায় টাইম স্পাই এক্সট্রিম। এখানে আর আগের মতো ১০-১৫ হাজারের স্কোর দেখা যাচ্ছে না; ওভারঅল স্কোর নেমে এসেছে ৬,৫০২-এ। এফপিএস-এর দিকে তাকালে দেখা যায় জিটি-ওয়ানে ৪১ এবং জিটি-টু-তে ৪০-এর নিচে স্কোর। অর্থাৎ বর্তমানের হেভি টাইটেলগুলোতে ম্যাক্সড আউট সেটিংসে কোনো প্রকার আপস্কেলিং বা ফ্রেম জেনারেশন ছাড়া ৪কে-তে আমরা এই ধরনের পারফরম্যান্সই আশা করতে পারি।

সিন্থেটিক বেঞ্চমার্কের পর্ব এখানেই শেষ, এবারে চলুন সরাসরি চলে যাই আমাদের গেমিং বেঞ্চমার্ক সেকশনে।
Gaming Benchmark
Alan Wake 2

আমাদের গেমিং বেঞ্চমার্কের শুরুতেই আমরা বেছে নিয়েছি গত বছরের গ্রাফিক্যালি ডিমান্ডিং টাইটেল অ্যালান ওয়েক টু। গেমটির একদম শুরুতে একটি ডিমান্ডিং সেকশনে আমরা র্যাস্টার গ্রাফিক্স প্রিসেটে এটি টেস্ট করেছি। ১০৮০পি রেজোলিউশনে কার্ডটি গড়ে ৫০ এফপিএস এবং ১% লো হিসেবে ৪০ এফপিএস বজায় রাখতে পেরেছে, যা সিঙ্গেল প্লেয়ার গেমপ্লে হিসেবে মন্দ নয়।

তবে ১৪৪০পিতে পরিস্থিতি কিছুটা করুণ; এখানে গড় এফপিএস নেমে আসে মাত্র ৩৫-এ এবং .১% লো দাঁড়ায় ২৮ এফপিএসে। নেটিভ রেজোলিউশনে এই ফলাফল বেশ হতাশাজনক হওয়ায় আমরা আর রে ট্রেসিং টেস্ট করার প্রয়োজন বোধ করিনি।
Avatar: Frontiers of Pandora

আমাদের বেঞ্চমার্ক স্যুইটে নতুন মুখ হিসেবে যোগ হয়েছে Avatar: Frontiers of Pandora। গেমটি আমরা হাই সেটিংসে টিএএ (TAA) ব্যবহার করে টেস্ট করেছি। নেটিভ ১০৮০পি রেজোলিউশনে গেমটির বিল্ট-ইন বেঞ্চমার্কে আমরা দেখতে পাচ্ছি মিনিমাম এফপিএস প্রায় ৬৫, অ্যাভারেজ ৮২ এবং ম্যাক্সিমাম ১০৬। অর্থাৎ এই সেটিংসে ১০৮০পি রেজোলিউশনে গেমটি বেশ ভালোভাবেই উপভোগ করা সম্ভব, যদিও কিছু ইনটেন্সিভ সেগমেন্টে পারফরম্যান্স কিছুটা ড্রপ করতে পারে।

এবারে আসা যাক ১৪৪০পি রেজোলিউশনের রেজাল্টে। এখানে গড় এফপিএস কিছুটা কমে ৫৪-তে দাঁড়িয়েছে, যা নেহাত মন্দ নয়। মিনিমাম ৪৫ এবং ম্যাক্সিমাম ৬৯ এফপিএস থেকে বোঝা যায় যে এটি একটি ডিসেন্ট সিঙ্গেল প্লেয়ার এক্সপেরিয়েন্স দিতে সক্ষম। তবে ১৪৪০পি-তে গেমটি আরও নিখুঁতভাবে খেলতে চাইলে আমরা ডিএলএসএস (DLSS) এর শরণাপন্ন হওয়ার পাশাপাশি কোনো একটি গ্রাফিক্যাল অপ্টিমাইজেশন গাইড ব্যবহারের পরামর্শ দিব।
Black Myth: Wukong
এবারে নজর দিচ্ছি বর্তমানের ট্রিপল-এ গেমিং সেনসেশন Black Myth: Wukong-এর দিকে। গেমটির স্টিম বেঞ্চমার্ক টুল ব্যবহার করে আমরা প্রথমে নেটিভ রেজোলিউশনে ‘হাই প্রিসেট’-এ কোনো প্রকার রে ট্রেসিং ছাড়া শুধু র্যাস্টার পারফরম্যান্স যাচাই করেছি।

১০৮০পি রেজোলিউশনে আমাদের রিভিউ ইউনিটটি বেশ ডিসেন্ট ফ্রেমরেট উপহার দিয়েছে; এখানে মিনিমাম ৬২ এবং গড় ৭৪ এফপিএস পাওয়া গেছে যা নির্দেশ করে যে এই রেজোলিউশনে গেমটি বেশ সাবলীলভাবেই খেলা যাবে, যদিও ইনটেনসিভ এরিয়াগুলোতে ফ্রেমরেট কিছুটা ড্রপ করার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

১৪৪০পি রেজোলিউশনে গড় এফপিএস কিছুটা কমে ৫২-তে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ম্যাক্স এফপিএস ছিল ৬০-এর কাছাকাছি। এই রেজোলিউশনে স্মুথ এক্সপেরিয়েন্স পেতে হলে আপনাকে সেটিংস কিছুটা অ্যাডজাস্ট করতে হবে অথবা ডিএলএসএস (DLSS) কোয়ালিটি প্রিসেটের সমমান রেজোলিউশন স্কেলিং ব্যবহার করতে হবে।

গল্পের মোড় ঘুরে যায় যখন আমরা একই ‘হাই প্রিসেট’-এ মিডিয়াম রে ট্রেসিং এনাবল করি। ১০৮০পি নেটিভ রেজোলিউশনে আমরা গড় ৪১ এবং মিনিমাম ৩৫ এফপিএস পেয়েছি, যা সিঙ্গেল প্লেয়ার গেমের জন্য মোটামুটি চলনসই হলেও গেমপ্লে অনেক ক্ষেত্রে ‘সিনেমাটিক’ এফপিএস-এর কাছাকাছি চলে আসবে। বেটার গেমপ্লে এক্সপেরিয়েন্স অ্যাচিভ করতে এখানে অন্তত ৬৭% রেজোলিউশন স্কেলিং ব্যবহারের পরামর্শ থাকবে।

তবে ১৪৪০পি নেটিভ রেজোলিউশনে রে ট্রেসিং অন করতেই পারফরম্যান্সের বেশ করুণ এক দশা চোখে পড়ে। এখানকার রেজাল্টগুলো দেখে হুট করে বাংলাদেশের জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানদের অ্যাভারেজ স্কোরের কথা মনে পড়ে যেতে পারে; গড় মাত্র ২৬ এবং মিনিমাম ২২ এফপিএস! এই রেজোলিউশনে আরটি মিডিয়াম সহ খেলতে চাইলে আপনাকে অন্তত ৫০% স্ক্রিন রেন্ডার রেজোলিউশন ব্যবহার করতে হবে অথবা সরাসরি রে ট্রেসিং বাদ দিতে হবে। ফ্রেম জেনারেশন একটি ভালো সমাধান হতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরি যে বেইস ফ্রেমরেট ৫০-এর নিচে থাকলে ল্যাটেন্সি পেনাল্টি যোগ হতে পারে।
Counter-Strike 2
ইস্পোর্টস প্রেমীদের জন্য আমাদের বেঞ্চমার্ক স্যুইটে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে থাকছে অল-টাইম ফেভারিট Counter-Strike 2। আমরা গেমটির গ্রাফিক্স ‘VERY HIGH’ এবং এমএসএএ ৪এক্স (MSAA 4x) সেট করে ডাস্ট টু ম্যাপের একটি ইনটেন্সিভ ওয়ার্কশপ ফ্লাই-বাইয়ের মাধ্যমে টেস্ট করেছি।

এক গাদা স্মোক আর গ্রেনেড এক্সপ্লোশনের মতো হেভি পার্টিকেল ইফেক্ট থাকা সত্ত্বেও ১০৮০পি রেজোলিউশনে আমরা গড়ে প্রায় ৩২০ এফপিএস পেয়েছি, যেখানে ১% লো ছিল ১৫৬। যেহেতু এটি একটি কম্পিটিটিভ টাইটেল, তাই গ্রাফিক্স সেটিংস আরও কিছুটা টিউন করে আপনারা অনায়াসেই আরও বেশি ফ্রেমরেট বের করে নিতে পারবেন, কারণ এসব গেমে ফ্রেমরেট যত বেশি, গেমপ্লে ততটাই রেসপনসিভ।

এবারে ১৪৪০পি রেজোলিউশনের রেজাল্টের দিকে তাকালে দেখা যায়, গড় এফপিএস ২২৩ এবং ১% লো ১০৯-এর ঘরে অবস্থান করছে। অর্থাৎ, এই কার্ডটি দিয়ে Counter-Strike 2 কিংবা Valorant-এর মতো টাইটেলগুলো আপনারা বেশ হাই-রিফ্রেশ রেটে এবং স্মুথলি উপভোগ করতে পারবেন।
Cyberpunk 2077
CD Projekt Red-এর এই ইম্প্রেসিভ ওপেন ওয়ার্ল্ড অ্যাকশন আরপিজি গেমটি একের পর এক আপডেটের মাধ্যমে গেমপ্লেতে স্ট্যাবিলিটি আনার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফিচার যোগ করে যাচ্ছে। প্রথমেই আমরা এর ‘আল্ট্রা প্রিসেট’ দেখে নিচ্ছি, যা সম্পূর্ণ র্যাস্টার ভিত্তিক।

১০৮০পি নেটিভ রেজোলিউশনে আমরা গড় ১০৬ এফপিএস পেয়েছি, যেখানে মিনিমাম ছিল ৯০ এবং ম্যাক্স ১২২। এর মানে হলো, এই রেজোলিউশনে আপনারা চাইলে অনায়াসেই ‘Psycho’ স্ক্রিন স্পেস রিফ্লেকশন কিংবা DLAA এনাবল করে গেমটি উপভোগ করতে পারবেন। তবে ছোট একটা সতর্কতা Phantom Liberty এক্সপ্যানশন প্যাকের ‘Dogtown’ এরিয়াটি গ্রাফিক্যালি অনেক বেশি ইনটেন্সিভ, তাই সেখানে কিছুটা পারফরম্যান্স ড্রপের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

১৪৪০পি নেটিভ রেজোলিউশনে পরিস্থিতি কিছুটা টাইট; এখানে গড় এফপিএস টেনেটুনে ৬০-এর ঘরে থাকে এবং মিনিমাম ৫৪ এফপিএস পর্যন্ত নেমে আসে। যদি ১৪৪০পি-তে আপনাকে খেলতেই হয়, তবে আমরা Digital Foundry-র অপ্টিমাইজড সেটিংস ব্যবহারের পরামর্শ দেব।

এবারে আসা যাক রে ট্রেসিংয়ের কথায়। ইন-গেম ‘RT Ultra’ প্রিসেট ব্যবহার করে ১০৮০পি নেটিভ রেজোলিউশনে গড় ৫১ এফপিএস পাওয়া গেছে, যা কোনোমতে প্লেয়েবল হলেও এটি ৬০ এফপিএসের জন্য রীতিমতো লড়াই করে।

কিন্তু ১৪৪০পি নেটিভ রেজোলিউশনে একই প্রিসেটে পারফরম্যান্সের বেশ শোচনীয় অবস্থা দেখা যায়, গড় মাত্র ২৫ এবং মিনিমাম ১৭ এফপিএস! অর্থাৎ ‘সিনেমাটিক’ ৩০ এফপিএস-ও এখানে কনসিস্ট্যান্ট নয়। তাই রে ট্রেসিং সহ এই গেমটি উপভোগ করতে হলে DLSS Quality বা Balanced প্রিসেট ব্যবহারের পাশাপাশি ফ্রেম জেনারেশনের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া উপায় নেই। অবশ্যই এক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিগত রুচি অনুযায়ী সেটিংসগুলো অ্যাডজাস্ট করে নেবেন।
Doom: The Dark Ages
গেমটির বিল্ট-ইন বেঞ্চমার্ক ‘Spire of Nerathul’ ব্যবহার করে আমরা লো প্রিসেটে এটি টেস্ট করেছি। সত্যি বলতে, গেমটি এতোটাই ওয়েল-অপ্টিমাইজড এবং এর গ্রাফিক্স এতোটাই ভিভিড যে লো প্রিসেটেও এটি দেখতে অনেক ট্রিপল-এ গেমের ম্যাক্সড-আউট সেটিংসের মতোই মনে হয়।

১০৮০পি নেটিভ রেজোলিউশনে আমরা গড়ে প্রায় ১০৭ এফপিএস পেয়েছি, যেখানে মিনিমাম ফ্রেমরেট ছিল বেশ হেলদি, প্রায় ৬৫ এফপিএস। এই সেটিংস এবং রেজোলিউশনে গেমটি অত্যন্ত সাবলীলভাবে খেলা যাবে।

তবে ১৪৪০পি নেটিভ রেজোলিউশনে রেজোলিউশন বাড়াতেই পারফরম্যান্সে কিছুটা টান লক্ষ্য করা যায়; এখানে গড় এফপিএস ৭০-এর ঘরে থাকলেও মিনিমাম ফ্রেমরেট এক ধাক্কায় ৪৭-এ নেমে আসে। যদিও ম্যাক্স ফ্রেমরেট ১১৮ পর্যন্ত হিট করে, তবে তা গেমপ্লের সময় খুব সামান্য সময়ের জন্য থাকে বলে সেটি ইগনোর করাই ভালো। তাই ১৪৪০পি-তে এই কার্ড দিয়ে আরও বেটার এক্সপেরিয়েন্স পেতে হলে আপনাকে অন্তত DLSS Quality প্রিসেটের শরণাপন্ন হতে হবে, আর ফ্রেম জেনারেশনের অপশন তো খোলা আছেই।
Forza Horizon 5
ফোর্যা হরাইজন ৫ আমাদের বেঞ্চমার্ক স্যুইটের একমাত্র রেসিং টাইটেল, ডাইরেক্ট এক্স ১২ এবং বেশ ভালো অপ্টিমাইজেশনের জন্য এই গেমটা রেসিং গেম ভক্ত এবং পিসি এন্থুসিয়াস্টদের কাছে বেশ ভালোভাবেই পরিচিত, আমরা এই গেমটি টেস্ট করেছি এক্সট্রিম গ্রাফিক্স প্রিসেটে,

নেটিভ ১০৮০পি রেসাল্টসের দিকে এক পলক তাকালেই আমরা দেখতে পাবো মিনিমাম এফপিএস খুবই হৃষ্টপুষ্ট ১৩১ এফপিএসের মতো, অ্যাভারেজ খুব অল্পের জন্য ১৫০ যেতে পারেনি, ম্যাক্সিমাম এফপিএস প্রায় ১৭০ এফপিএসের কাছাকাছি, যারা এই গেমটি অনালাইন খেলেন, তাদের জন্য এই রেজোলিউশান এবং সেটিংসে এই গেমটি বেশ উপভোগ্য হবে বলে ধারণা করছি,

১৪৪০পি নেটিভ রেজোলিউশানে আমরা পারফর্মেন্সে খানিকটা ড্রপ দেখতে পাচ্ছি, মিনিমাম এফপিএস এখন ১০৭, অ্যাভারেজ হচ্ছে ১২৪ এবং ম্যাক্সিমাম ১৩৯, এই টাইটেলে আমাদের আজকের এই রিভিউ উনিটটি পারফর্মেন্স বেশ ভালো, তবে এফএইচ ফাইভের এখন প্রায় রিটায়ার করার সময় এসে গিয়েছে কারণ এফএইচ সিক্স দেখতে দেখতে চলে আসবে।
Horizon Forbidden West
এক সময়ের PlayStation এক্সক্লুসিভ এই Horizon Forbidden West-এর পিসি পোর্টটি কিন্তু বেশ চমৎকারভাবে অপ্টিমাইজড। এর কালারফুল এবং ভিভিড গ্রাফিক্স পরখ করতে আমরা গেমটির শুরুর দিকে কিছুটা উদ্দেশ্যবিহীন ছোটাছুটি করে বেঞ্চমার্কটি রান করেছি।

গেমটি সম্পূর্ণ ম্যাক্সড আউট করে এবং DLAA এনাবল করে ১০৮০পি নেটিভ রেজোলিউশনে আমরা পেয়েছি গড়ে ৭৬ এফপিএস, যেখানে ১% এবং .১% লো ছিল যথাক্রমে ৫৬ ও ৪৩। তবে একটা ছোট সতর্কতা, গেমটি ম্যাক্স আউট করলে এটি খুব সহজেই আপনার জিপিইউ-এর ৮জিবি ভিডিও মেমোরির পুরোটাই গিলে ফেলতে পারে। তাই অ্যাসেট স্ট্রিমিং রিলেটেড স্টাটারিং এড়াতে সেটিংস সামান্য কমিয়ে রাখার পরামর্শ থাকবে, যা আপনাকে আরও স্মুথ একটি এক্সপেরিয়েন্স দেবে।

অন্যদিকে ১৪৪০পি রেজোলিউশনে গড় ৪৫ এফপিএস খুব একটা মন্দ না হলেও ১% এবং .১% লো এফপিএস তখন সিনেমাটিক রেঞ্জে নেমে আসে। তাই ১৪৪০পি-তে এই গেমটির আসল মজা পেতে চাইলে আমরা হাই সেটিংস এবং DLSS Quality প্রিসেট ব্যবহারের পরামর্শ দেব। আর ফ্রেম জেনারেশনের অপশন তো থাকছেই, যা আপনার গেমপ্লেকে আরও বেশি ফ্লুইড করে তুলবে।
Red Dead Redemption 2
রকস্টারের ওপেন ওয়ার্ল্ড গেমগুলোর মধ্যে অল-টাইম ক্ল্যাসিক একটি এন্ট্রি হচ্ছে Red Dead Redemption 2। গেমটি কিছুটা পুরোনো হওয়ায় আমরা ১০৮০পি নিয়ে আর মাথা ঘামাইনি, সরাসরি ১৪৪০পি রেজোলিউশনেই এর সক্ষমতা যাচাই করেছি। ভাল্কান এপিআই (Vulkan API) এবং ব্যালান্সড গ্রাফিক্স প্রিসেটে গেমটির ইন-গেম বেঞ্চমার্ক টুল ব্যবহার করে আমরা টেস্ট রান করেছি। এখানে আমরা মূলত ‘টেস্ট পাস ৫’-এর রেজাল্টগুলোকেই প্রাধান্য দিয়েছি, কারণ এটিই রিয়েল-টাইম গেমিং সিনারিওকে সবচেয়ে নিখুঁতভাবে রিপ্রেজেন্ট করে।

বেঞ্চমার্কে দেখা গেছে, মিনিমাম এফপিএস গড়ে ৩৬-এর ঘরে থাকলেও অ্যাভারেজ এফপিএস এসেছে ৮৮-এর মতো। যদিও ম্যাক্সিমাম এফপিএস প্রায় ২২০ দেখাচ্ছিল, তবে ফিগারটি কিছুটা সন্দেহজনক; হতে পারে টেস্ট শেষ হওয়ার মুহূর্তে স্ক্রিন থেকে সব অবজেক্ট অফলোড হওয়ার সময়কার কোনো স্পাইক এটি কাউন্ট করেছে। যাই হোক, ১৪৪০পি রেজোলিউশন এবং এই সেটিংসে আমাদের আজকের রিভিউ ইউনিটটি দিয়ে গেমটি বেশ সাবলীলভাবেই খেলা যাবে। আপনারা চাইলে সময় নিয়ে নিজ দায়িত্বে সেটিংস আরও কিছুটা বাড়িয়ে টিউন করে নিতে পারেন।
Metro Exodus EE
Metro Exodus Enhanced Edition মেট্রো সিরিজের ভক্তদের কাছে এখনও একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় নাম। পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপ্টিক থিমের এই গেমটির ‘এনহ্যান্সড এডিশন’ মূলত একটি ডেডিকেটেড রে ট্রেসিং আপডেট, যা রে ট্রেসিং সাপোর্ট ছাড়া কোনো গ্রাফিক্স কার্ডে চালু করাই সম্ভব নয়। আমরা এই গেমটির বিল্ট-ইন বেঞ্চমার্ক এক্সিকিউটেবল ব্যবহার করে ‘এক্সট্রিম প্রিসেটে’ পারফরম্যান্স যাচাই করেছি।

নেটিভ ১০৮০পি রেজোলিউশনে আমরা মিনিমাম ৪০ এফপিএস পেয়েছি এবং গড় ফ্রেমরেট ছিল ৬০-এর ম্যাজিক ফিগার থেকে সামান্য কিছুটা কম। সর্বোচ্চ ৮৫ এফপিএস পর্যন্ত হিট করলেও এটি পরিষ্কার যে Metro Exodus Enhanced Edition এখনও রে ট্রেসিং শোকেসিংয়ের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ এবং এটি আধুনিক গ্রাফিক্স কার্ডগুলোকেও বেশ ভালোই ঘামিয়ে দিতে পারে।

১৪৪০পি নেটিভ রেজোলিউশনে পরিস্থিতি আরও কিছুটা টাইট হয়ে আসে। এখানে মিনিমাম এফপিএস কোনোমতে ৩০ পার করেছে এবং গড় ফ্রেমরেট পাওয়া গেছে ৪৩। সর্বোচ্চ ফ্রেমরেট এখানে মাত্র ৬৩ এফপিএস। এই রেজোলিউশনে গেমটি স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে হলে আপনাকে অবশ্যই সেটিংস কিছুটা কমিয়ে আনতে হবে। উল্লেখ্য যে, এই গেমটিতে ডিএলএসএস (DLSS)-এর পুরোনো ভার্সন ব্যবহৃত হওয়ায় আপস্কেলিং ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া কিছুটা কঠিন, তবে অন্তত অপশনটি আপনার জন্য উপলব্ধ রয়েছে।
Thermal Behaviour and Power Draw
এবারে নজর দেওয়া যাক কার্ডটির Thermal Behavior and Power Draw-এর দিকে। আমাদের আজকের রিভিউ ইউনিটটির টেস্টিং করা হয়েছে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস মেইনটেইন করা একটি এয়ার কন্ডিশনড রুমে। অ্যাম্বিয়েন্ট টেম্পারেচারে হয়তো ক্ষেত্রবিশেষে এক ডিগ্রি এদিক-সেদিক হতে পারে। আমাদের টেস্ট সেটআপটি ছিল একটি ওপেন বেঞ্চ সেটআপ, তাই একটি পিসি কেসিং বা চ্যাসিসের ভেতর এয়ার ফ্লো ইনটেক বা এক্সজস্টের যে প্রভাব থাকে, তা এখানে প্রযোজ্য নয়। সম্পূর্ণ বিহেভিয়ারটি রেকর্ড করা হয়েছে 3DMark Speed Way Stress Test-এর মাধ্যমে।

এখানে বলে রাখা ভালো যে, NVIDIA তাদের RTX 5000 Series থেকে জিপিইউ হটস্পট টেম্পারেচার মেজারমেন্ট ফিচারটি রিমুভ করে দিয়েছে। এই ফিচারটি মূলত ফল্টি কুলিং বা কুলারের ব্যাড মাউন্ট ডায়াগনোজ করার জন্য বেশ কার্যকর ছিল। আমরা কার্ডটির আইডল টেম্পারেচার পেয়েছি সর্বনিম্ন ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং হাইয়েস্ট লোড টেম্পারেচার ছিল ৬৮ ডিগ্রির মতো।

কার্ডের মেমোরি জাংশন টেম্পারেচার ছিল সর্বোচ্চ ৭৪ ডিগ্রি এবং মেমোরি আইডল টেম্পারেচার ছিল ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কার্ডটি তার টিডিপি (TDP) অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫৫ ওয়াট পর্যন্ত পাওয়ার ড্র করেছে। তবে আপনি চাইলে এর লিমিট ১৭০ ওয়াট পর্যন্ত এক্সটেন্ড করে ওভারক্লক করতে পারবেন। আইডল অবস্থায় কার্ডটি মাত্র ৫ ওয়াটের মতো পাওয়ার নিলেও এটি আপনার মনিটরের রেজোলিউশন ও রিফ্রেশ রেটের ওপর ভিত্তি করে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।
Fan Noise
কার্ডটিতে রয়েছে ‘ফ্যান স্টপ’ প্রযুক্তি, অর্থাৎ নির্দিষ্ট লোড না পড়া পর্যন্ত এর ফ্যানগুলো পুরোপুরি বন্ধ থাকে। স্ট্রেস টেস্টের সময় আমরা জিপিইউ ফ্যানগুলোকে সর্বোচ্চ ৫৩% স্পিডে পৌঁছাতে দেখেছি, যা প্রায় ১৬৫০ আরপিএম-এর মতো। কার্ডটির ফ্যানগুলো ছিল অত্যন্ত সাইলেন্ট। এমএসআই-এর গেমিং সিরিজের এই চমৎকার কুলিং পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
Clock Speed

সবশেষে আসা যাক কার্ডটির ক্লক স্পিড বিহেভিয়ারে। এটি সম্পূর্ণটাই নির্ভর করবে আপনি কার্ডটিকে কী ধরনের ওয়ার্কলোড দিচ্ছেন তার ওপর। যেমন Forza Horizon 5-এর মতো গেমে এই কার্ডটি ২৮০০ মেগাহার্টজ-এরও বেশি বুস্ট ক্লক রিচ করতে সক্ষম। আবার যেসব গেমে ওয়ার্কলোড অনেক বেশি কমপ্লেক্স, সেখানে গড়ে ২৭৫০ মেগাহার্টজ-এর আশেপাশে ক্লক স্পিড দেখতে পাবেন। কাজের ধরনভেদে এই সংখ্যা কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।




