ব্যক্তিগত কম্পিউটার কেনা এক কথা আর অফিস / ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য কম্পিউটার কেনা আরেক কথা। ব্যক্তিগত কম্পিউটার কেনার ক্ষেত্রে আপনি ১০০% স্বাধীনতা পান, চাইলেই আপনি আরেকটু ভালো কম্পোনেন্টস নিতে পারেন। কিন্তু অফিসের কম্পিউটারে আপনার জন্য বাজেট ফিক্সড থাকে এবং অনেক সময় কম্পোনেন্টসও ফিক্সড করা থাকে।
নেটে গেমিং কম্পিউটার, পারসোনাল কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদি কেনার জন্য বিভিন্ন লিখিত গাইড, টিউটোরিয়াল ভিডিও পাবেন।
আজ অফিসের জন্য বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য কম্পিউটার কেনার উপর আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা শেয়ারের চেষ্টা করবো।
পেশাগত খাতিরে একটি ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় অফিসের পিসি কেনার সময় সামনে আসা ইস্যুগুলোর সাথে বেশ পরিচিত। তো আসুন ভূমিকায় আর কথা না বাড়িয়ে সরাসরি মূল অংশে চলে যাই।
উল্লেখ্য যে, এটা বিশেষ কোনো বাজেট এর বাইয়িং গাইড নয়, বরং এটা সবার জন্য একটি গাইড হিসেবে কাজ করবে।
পূর্ব প্রস্তুতি
বাজেট:
অফিসের কম্পিউটারে আহামরি তেমন বাজেট লাগে না তবে অফিসের HR কিংবা বসের সাথে আলাপ করে যদি বাজেট বাড়িয়ে নিতে পারেন তাহলে বেশ ভালো হবে।
অফিসের জন্য কম্পিউটার কেনার সময় সবার আগে যেটা লাগবে সেটা হচ্ছে কি কি ধরনের কাজ করা হবে সেটা জানা।
সাধারণত MS Office, ক্রোম ব্রাউজিং এবং টুকটাক Photoshop কাজ করার জন্য আপনার আলাদা করে GPU থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু অফিস/ব্যবসায়ের জন্য যদি আপনার ভিডিও এডিটিং করার প্রয়োজন হয় তাহলে আলাদা করে GPU কেনার দিকে আপনাকে যেতে হবে।
মনিটর সহ বাজেট ৩০ হাজার কিংবা এর নিচের হলে মোটামুটি ভালো কনফিগারেশন পেতে হলে মনিটর, স্টোরেজ সাইজে কিছু কমপ্রোমাইজ করতে হবে।
৪০ হাজার বাজেটে ডিসেন্ট কনফিগারেশন সহ ২৪ ইঞ্চির মনিটর পাওয়া সম্ভব।
যা যা লাগবে
সাধারণত অফিসের কম্পিউটারের জন্য এই জিনিসগুলো লাগে:
১। মনিটর: সাধারণত মনিটরে ১০ থেকে ১৫ হাজার রাখলেই চলে। তবে বড় সাইজের মনিটর কিংবা হাই ক্যালিবারের মনিটর লাগলে সেখানে বাজেট বাড়াতে পারেন।
২। প্রসেসর: যেহেতু অফিসের পিসিতে আলাদা GPU থাকবে না তাই পিসির যত প্রেসার আছে সবই প্রসেসর বাবু নিবে, তাই প্রসেসর বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বাজেট অনুযায়ী সেরাটা দেওয়া উচিত।
রংচটা ইউটিউবের ভিডিওগুলো দেখে ছোটবেলার প্রসেসর নেওয়া চাইলে অবশ্যই লেটেস্ট প্রসেসর নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন 4th Generation Core i7 নেওয়ার থেকে 13th Generation Core i3 নেওয়া অনেক অনেক বেটার।
৩। Ram: Ram এর ক্ষেত্রে ৮ জিবি হলেই অফিসের সবকাজ অনায়েসে করতে পারবেন। ১৬ জিবি নিলে আরো ভালো হয় তবে কখনোই ৪ জিবি/৬জিবি Ram নেওয়া উচিত নয়।
৪। মাদারবোর্ড: প্রসেসরের পরেই আপনাকে মাদারবোর্ড এর দিকে নজর দিতে হবে। কারণ অফিসের পিসিগুলোতে প্রসেসর আর মোবোই প্রায় সকল লোড/প্রেসার নিয়ে থাকে।
অফিসের পিসির জন্য একদম লো লেভেল কিংবা হাই লেভেলের মোবো নেবার প্রয়োজন নেই। আপনার প্রসেসরের উপর ভিত্তি করে একটি যথাযথ মানানসাই মাদারবোর্ড বাছাই করা উচিত।
৫। SSD: অবশ্যই অবশ্যই আপনার অফিসের পিসির জন্য SSD নেওয়া উচিত। নুন্যতম ১২০ জিবির এসএসডি নিবেন, সেখানে উইন্ডোজ ইন্সটল করে নিবেন। এবং আলাদা করে স্টোরেজ সার্পোটের জন্য ২৫৬/৫১২ জিবির হার্ডডিক্স নিয়ে নিবেন।
৬। কেসিং এবং PSU: আপনার বিল্ডে যদি এক্সটারনাল জিপিইউ না থাকে তাহলে আলাদা করে পাওয়ার সাপ্লাই নেবার প্রয়োজন নেই। বিল্ড ইন PSU সহ যেসকল কেসিং বাজারে রয়েছে সেগুলো দিয়েই আপনার কাজ অনায়েসে চলে যাবে।
মনিটর গাইড:
বিশ্বাস করেন বা না করেন, অফিসের জন্য কিংবা ব্যক্তিগত কারণে বা গেমিং পিসি যে কারণেই পিসি বিল্ড করেন না কেন; মনিটর কেনার সময় আপনাকে অবশ্যই আপনার প্রয়োজনের থেকে Comford এর কথাটি মাথায় রাখতে হবে।
কারণ অফিসের জন্য পিসিগুলোতে যারা পিসিগুলো অপারেটর করবেন তারা দিনের ৮/৯ ঘণ্টাই মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকবেন। লো লেভেল বা একদম লো বাজেটের চাইনিজ মনিটরগুলো দিয়ে আপনার অফিসের কাজ হয়তো চলে যাবে কিন্তু অপারেটরদের চোখের যে ক্ষতিটা হবে তা অপুরণীয়।
মনিটর নিয়ে আমাদের চ্যানেলে আলাদা একটি প্লেলিস্ট রয়েছে সেটা ঘুরে দেখার জন্য আহ্বান থাকলো।
মনিটর কেনার আগে অবশ্যই মনিটরটি চালিয়ে দেখবেন। বিশেষ করে যেহেতু অফিসের কাজে কিনছেন তাই MS word / excel চালু করে কিছু টাইপ করে চেক করে নিবেন মনিটরে অক্ষরগুলোর পিক্সেল কেমন দেখাচ্ছে।
কেসিং গাইড
ঝাকানাকা RGB কেসিং অফিসে ব্যবহার করা হয় না, তাই বাজারে নরমাল কেসিংই আপনার অফিসের পিসির জন্য সেরা। তবে কেসিং কেনার সময় দুটি জিনিস খেয়াল রাখবেন:
১। PSU: একদম এন্ট্রি লেভেলের কেসিংয়ে আলাদা করে কোনো পাওয়াার সাপ্লাই দেওয়া থাকে না। তাই ১৫০০ টাকার উপরের কেসিংগুলোতে দেখবেন বিল্ট ইন PSU দেওয়া থাকে। বিল্ট ইন PSU সহ কেসিং নেবার চেষ্টা করবেন।
২। USB পোর্ট: অফিসের পিসির কেসিংয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সবসময় চেষ্টা করবেন যে কেসিংয়ে পর্যাপ্ত পরিমানে USB Port থাকে। বিশেষ করে কেসিংয়ের সামনে মিনিমাম 4টি USB Port থাকে। বিশ্বাস করেন অফিসের পিসিতে বড় একটি ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে এই কেসিংয়ের USB Port। কারণ মাউস কিবোর্ড ছাড়াও অফিসের পিসিতে আলাদা করে Scanner, Printer, Pen drive সহ বিভিন্ন ধরণের আলাদা আলাদা টুলস ব্যবহার করা লাগে।
বোনাস:
সব সময় চেষ্টা করবেন সাইজে ছোটখাট কেসিং বাছাই করার। এতে পরবর্তীতে পিসি সাভিসের জন্য দৌড়াদৌড়ি সহজ হয়। এছাড়াও অফিস স্পেসও বাঁচলো।
কিছু কিছু কেসিংয়ের উপর দিকে দেখবেন হাতলের মতো ডিজাইন থাকে। যদি পছন্দ হয় তাহলে এই ডিজাইনের কেসিংগুলো নিতে পারেন তাহলে দেখবেন ভবিষ্যৎতে অনেক কিছুতে এই হাতল বিশিষ্ট ডিজাইন আপনাকে কাজে লাগবে।
Intel vs AMD
আমাদের দেশে অফিসের জন্য সাধারনত রাইজেন প্রসেসর ব্যবহার করা হয় না। অফিস ব্যবসায়িক প্লেসে প্রায় ৯০% ইন্টেল সিস্টেম ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
তবে AMD Ryzen কিংবা ইন্টেল যেটাই হোক না কেন। অফিসের জন্য আপনি যেকোনো ব্রান্ডের প্রসেসর নিতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন AMD প্রসেসর নিলে মাদারবোর্ডও AMD কম্পাটেবল নিতে হবে।
ইন্টেল বা এএমডি যেটা নেন না কেন। অবশ্যই অবশ্যই Pentium, Celeron, Athlon এই সব ছোট বেলার সিরিজ নিবেন না।
সৌন্দর্য্য বনাম পারফরমেন্স
অফিসের পিসির ক্ষেত্রে সবসময় খেয়াল রাখবেন যে বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ পারফরমেন্স বাগিয়ে নেওয়ার। কারণ RGB কিংবা সুন্দর কেসিং নিলেও দেখবেন যে কেসিং অফিস রুমের এক কোণায় পড়ে রয়েছে। তাই পারফরমেন্স টপ priority তে রাখবেন।
যা যা পরিহার করা উচিত
প্রসেসর: ৫ জেনারেশন আগের কোনো প্রসেসর নেওয়া উচিত নয়।
মাদারবোর্ড: Ram স্লট পর্যাপ্ত থাকে সেটা লক্ষ্য রাখবেন।
Ram: DDR3 প্রযুক্তির Ram / সিস্টেম নিবেন না।
SSD: ব্রান্ডের SSD নিবেন, যেমন HP, Lexur, PNY ইত্যাদি।
মনিটর: ৪/৫ হাজার টাকার চাইনিজ মনিটর নিবেন না।
কেসিং: কেসিংয়ের সামনের দিকে 4টি USB পোর্ট থাকে সেরকম কেসিং খুঁজে নিবেন।
অপারেটিং সিস্টেম: অফিসের পিসিতে কাস্টম উইন্ডোজ মড করা অপারেটিং সিস্টেম না চালানেই বেটার।